আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর্টেমিস ২-এর মহাকাশচারীরা চাঁদে যাওয়া-আসার ঐতিহাসিক ১০ দিনের যাত্রা শেষে শনিবার ভোরে (ভারতীয় সময়) পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। চারজন মহাকাশচারীদের নিয়ে মহাকাশযানটি প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করেছে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর নাসা আর্টেমিস ২-এর ক্রুদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়। এই ক্রুদের মধ্যে রয়েছেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। মহাকাশচারীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান বলেছেন, ক্রুরা সকলেই ‘স্থিতিশীল’ এবং সুস্থ ছিলেন। নাসার জনসংযোগ আধিকারিক রব নাভিয়াস, যিনি নাসার লাইভস্ট্রিমে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন, তিনি বলেন, “তারা চমৎকার অবস্থায় আছেন।”
মহাকাশচারীরা যখন পৃথিবীতে ফিরে আসছিলেন, তখন মহাকাশযানটি শব্দের গতির ৩০ গুণেরও বেশি গতিতে ভ্রমণ করেছিল এবং সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছানো চরম তাপের সম্মুখীন হয়েছিল। এটি ছিল হিট শিল্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই শিল্ডটিই পূর্ববর্তী একটি পরীক্ষামূলক অভিযানের সময় সমস্যার সৃষ্টি করেছিল। তবে, আর্টেমিস ২-এর পুনঃপ্রবেশ কোনও সমস্যা ছাড়াই নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছিল।
১ এপ্রিল ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে শুরু হওয়া প্রায় ১০ দিনব্যাপী এই অভিযানটি চলেছে। এটিকে ভবিষ্যতে চাঁদে মহাকাশচারী অবতরণকারী অভিযানগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে একটি ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা-সহ চাঁদে দীর্ঘমেয়াদী মানব উপস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্যে নাসার কর্মসূচির অধীনে এটি ছিল প্রথম মানববাহী অভিযান।
আর্টেমিস কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়টি ছিল ওরিয়ন ক্যাপসুলের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করার জন্য একটি পরীক্ষামূলক উড়ান। এটি এর আগে কখনও মহাকাশচারী বহন করেনি। এই যাত্রাটি একটি নতুন রেকর্ডও স্থাপন করেছে। এই চারজন মহাকাশচারী পৃথিবী থেকে সর্বাধিক দূরত্ব ২,৫২,৭৫৬ মাইল (৪,০৬,৭৭১ কিলোমিটার) অতিক্রমকারী প্রথম মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
গভীর মহাকাশে ভ্রমণের সময় এবং চাঁদকে প্রদক্ষিণ করার সময়, মহাকাশচারীরা হাজার হাজার ছবি তুলেছেন। তাঁরা একটি সূর্যগ্রহণও দেখেছন, সেই সঙ্গে চন্দ্রপৃষ্ঠে অস্বাভাবিক উল্কাপিণ্ডের আঘাতও পর্যবেক্ষণ করেছেন। যা নাসার বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে।
এই অভিযানে বেশ কিছু মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে চাঁদ প্রদক্ষিণ করেন, কচ প্রথম মহিলা অভিযাত্রী এবং কানাডিয় নভোচারী হ্যানসেন প্রথম অ-আমেরিকান হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।















