আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়ার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবহে এক ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন বার্তা নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাল ইরানের প্রতিনিধিদল। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে এসেছে। তবে এই সফরের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক ছিল—বিমানের সামনের সারিতে রাখা ছিল রক্তমাখা স্কুলব্যাগ, জুতো, সাদা ফুল এবং মিনাবের নিহত শিশুদের ছবি।
এই প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে যুদ্ধের নির্মম মানবিক মূল্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চেয়েছে তেহরান। সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি শেয়ার করে গালিবাফ লিখেছেন, “এই ফ্লাইটে আমার সহযাত্রী #Minab168”—যা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে আলোড়ন তুলেছে।
‘মিনাব ১৬৮’ নামটি এসেছে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি থেকে, যেখানে যুদ্ধের প্রথম দিনেই একাধিক শিশুর মৃত্যু হয় বলে দাবি করেছে ইরান। অভিযোগ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়—শাজারে তাইয়িবেহ স্কুলে হামলা চালানো হয়, যেখানে ১৬০-রও বেশি শিশু নিহত হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়েদ আব্বাস আরাঘচি পরে একটি আকাশচিত্র প্রকাশ করে জানান, নিহত শিশুদের জন্য গণকবর খোঁড়া হচ্ছে। তিনি এই ঘটনাকে ‘ঠান্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর তীব্র সমালোচনা করেন।
তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প একবার সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা মনে করি এটি ইরানেরই কাজ। তাদের অস্ত্র ব্যবহারে যথেষ্ট নির্ভুলতা নেই।”
এই বিতর্ক ও উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার ইসলামাবাদে বসছে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি বৈঠক। ইরানের পক্ষ থেকে গালিবাফের সঙ্গে রয়েছেন আরাঘচি এবং আরও ১২ জন প্রতিনিধি। পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর তাদের অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহম্মদ ইশাক দার, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সর্দার আয়াজ সাদিক এবং সেনাপ্রধান সাইয়েদ আসিম মুনির।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১১ সালে জো বাইডেন-এর সফরের পর এই প্রথম কোনও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পাকিস্তান সফরে এলেন।
&t=546s
তেহরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়েই মূলত এই আলোচনা হবে। তবে মিনাবের শিশুদের স্মৃতি যে এই বৈঠকের আবহকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে, তা বলাই বাহুল্য। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মাঝেও শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে ইরানের এই প্রতীকী পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।















