২০২৬ সালের মার্চ মাস বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড গড়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শুধু স্থলভাগ নয়, সমুদ্রের তাপমাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে—যা আসন্ন এল নিনো-র ইঙ্গিত দিচ্ছে।
2
8
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে গড় বিশ্বের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। অন্যদিকে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসের গড় তাপমাত্রা ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। এই প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, পৃথিবী ক্রমশ উষ্ণ হয়ে উঠছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হচ্ছে।
3
8
সমুদ্রের তাপমাত্রাও একইভাবে উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামুদ্রিক তাপমাত্রা এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। সমুদ্রের এই অতিরিক্ত উষ্ণতা বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে তাপ বিনিময় বাড়ায়, ফলে বিশ্বের আবহাওয়ার ধরণে বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি সাধারণত এল নিনো-র সময়েই বেশি দেখা যায়, যখন প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অংশে জলের তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
4
8
এদিকে আর্কটিক অঞ্চলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। মার্চ মাসে আর্কটিক সাগরের বরফের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় ৫.৭ শতাংশ কম ছিল, যা রেকর্ড সর্বনিম্ন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আর্কটিক বরফ গলতে থাকলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে এবং বিশ্বজুড়ে উপকূলীয় এলাকাগুলি বিপদের মুখে পড়বে।
5
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনগুলির পেছনে মূল কারণ হচ্ছে মানুষের তৈরি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন। শিল্পায়ন, বন উজাড় এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে শুধু গরম বাড়ছে না, বরং খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়া ঘটনাও বাড়ছে।
6
8
আসন্ন এল নিনো পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। এটি সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ায় খরা, আবার অন্য অঞ্চলে অতিবৃষ্টি সৃষ্টি করতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে কৃষি এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায়।
7
8
বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন যে, যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
8
8
সব মিলিয়ে, মার্চের এই রেকর্ড তাপমাত্রা এবং সমুদ্রের অস্বাভাবিক উষ্ণতা পৃথিবীর জন্য এক বড় সতর্কবার্তা—যা উপেক্ষা করার সুযোগ আর নেই।