আজকাল ওয়েবডেস্ক: চিকিৎসকের বারণ ছিল। ছিল প্রাণের ঝুঁকিও। তা সত্ত্বেও অসুস্থ অবস্থায় সন্তানসম্ভবা কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার অনুমতি দেয়নি সংস্থা। উল্টে ভয় দেখানো হয়েছিল চাকরি ও বিমা হারানোর।

অফিসের এই ‘অমানবিক’ জেদই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল একরত্তির প্রাণ। কর্পোরেট দুনিয়ার এহেন চরম নির্দয় আচরণের সাজা দিল মার্কিন আদালত। আমেরিকার ওহায়ো প্রদেশের এক সংস্থাকে মৃত শিশুর পরিবারকে ২২.৫ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৮৮ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল জুরি।

ঘটনাটি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির। ‘টোটাল কোয়ালিটি লজিস্টিকস’ নামক এক নামী সংস্থায় কাজ করতেন চেলসি ওয়ালশ। সে সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর ছিল। একটি অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক তাঁকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন- পুরোপুরি বিশ্রামে থাকতে হবে এবং খুব প্রয়োজন হলে বাড়ি থেকেই কাজ করতে হবে।

আদালতে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি চেলসি তাঁর সংস্থাকে এই আর্জি জানান। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সাফ না করে দেয়। তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়, হয় সশরীরে অফিসে এসে কাজ করতে হবে, নয়তো বেতনহীন ছুটিতে যেতে হবে। আর ছুটি নিলে বেতন ও স্বাস্থ্যবিমা- দুইই বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পড়ে যান চেলসি।

বাধ্য হয়েই চিকিৎসকের নির্দেশ অমান্য করে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা তিন দিন অফিস করেন তিনি। এর ঠিক দু’দিন পরেই, ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে চেলসির প্রসব বেদনা শুরু হয়। 

নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১৮ সপ্তাহ আগেই জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান। নাম রাখা হয়েছিল ম্যাগনোলিয়া। জন্মের পর শিশুটির শরীরে প্রাণের স্পন্দন থাকলেও মাত্র এক ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই মৃত্যু হয় তার। জানা গিয়েছে, চেলসি যখন প্রসব যন্ত্রণায় হাসপাতালে ছটফট করছেন, তার কয়েক ঘণ্টা আগেই সংস্থাটি তাঁর ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর আবেদন মঞ্জুর করে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।

এরপরই ম্যাগনোলিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে সংস্থার বিরুদ্ধে গাফিলতির কারণে মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। হ্যামিল্টন কাউন্টির আদালত এই ঘটনায় সংস্থাকেই দায়ী করেছে। জুরির পর্যবেক্ষণ ছিল, চেলসির আর্জি অত্যন্ত সঙ্গত হওয়া সত্ত্বেও সংস্থা তা গ্রাহ্য করেনি। আদালত প্রাথমিকভাবে ২৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ধার্য করলেও, শেষ পর্যন্ত ৯০ শতাংশ দোষ সংস্থার উপর চাপিয়ে ২২.৫ মিলিয়ন ডলারের চূড়ান্ত রায় দেয়।

চেলসির আইনজীবী ম্যাথিউ মেটজগার বলেন, "পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চেলসি শুধু বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ চেয়েছিলেন। সেই টুকু সুযোগ না মেলাতেই আজ একরত্তিকে হারাতে হলো।”