আজকাল ওয়েবডেস্ক: কানাডার এক ছোট্ট অঞ্চল প্রতি বছর বসন্তে পরিণত হয় হাজার হাজার সাপের মিলনক্ষেত্রে। শুনতে অবাক লাগলেও, কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশের নার্সিস নামের জায়গায় প্রতি বছর প্রায় ৭৫ হাজার থেকে দেড় লক্ষ ‘রেড-সাইডেড গার্টার’ সাপ একসঙ্গে জড়ো হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাপের সমাবেশ হিসেবে পরিচিত এই স্থানকে অনেকেই মজা করে “সাপেদের হানিমুন স্পট” বলেও উল্লেখ করেন। এই বিরল প্রাকৃতিক ঘটনা দেখতে প্রতি বছর ভিড় জমান পর্যটক, গবেষক এবং প্রকৃতিপ্রেমীরা।
শীতপ্রধান কানাডায় বছরের বেশিরভাগ সময়ই তীব্র ঠান্ডা থাকে। ম্যানিটোবার এই অঞ্চলে তাপমাত্রা অনেক সময় মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেও নেমে যায়। সেই কঠিন শীতের সময় হাজার হাজার সাপ মাটির নিচে চুনাপাথরের গুহায় লুকিয়ে থাকে। কিন্তু বসন্ত আসতেই আবহাওয়া কিছুটা উষ্ণ হলে তারা একযোগে মাটির উপর বেরিয়ে আসে। আর তখনই শুরু হয় প্রকৃতির এক বিস্ময়কর দৃশ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাপেরা মূলত প্রজননের জন্যই একত্রিত হয়। স্ত্রী সাপকে ঘিরে অসংখ্য পুরুষ সাপ একসঙ্গে জড়ো হয় এবং তৈরি হয় বিশাল “মেটিং বল”। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন মাটির উপর সাপের ঢেউ চলছে। এই অদ্ভুত দৃশ্য একদিকে যেমন ভয় ধরায়, অন্যদিকে তেমনই বিস্মিত করে দর্শকদের।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই গার্টার সাপগুলো বিষহীন এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। তাই পর্যটকরা নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে এই বিরল দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। স্থানীয় প্রশাসনও পর্যটকদের জন্য বিশেষ ওয়াকওয়ে এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যাতে মানুষ সহজে এই প্রাকৃতিক ঘটনাকে কাছ থেকে দেখতে পারেন।
তবে একসময় এই সাপগুলির অস্তিত্ব বড় বিপদের মুখে পড়েছিল। সাপেরা যখন গুহা থেকে বেরিয়ে আশপাশের এলাকায় যেত, তখন রাস্তা পার হওয়ার সময় বহু সাপ গাড়ির চাকার নিচে চাপা পড়ে মারা যেত। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়েছিল যে পরিবেশবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাস্তার ধারে বেড়া তৈরি করা হয় এবং সাপেদের নিরাপদে চলাচলের জন্য বিশেষ আন্ডারপাস বা ছোট সুড়ঙ্গ বানানো হয়। এর ফলে এখন অনেকটাই কমেছে সাপ মৃত্যুর ঘটনা।
এই নার্সিস স্নেক ডেন্স এখন শুধু পর্যটন কেন্দ্রই নয়, বিজ্ঞানীদের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাক্ষেত্র। সাপের আচরণ, প্রজনন পদ্ধতি এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে এখানে নিয়মিত গবেষণা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে এত বিপুল সংখ্যক সাপের একসঙ্গে সমাবেশ খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়।
&t=136s
প্রকৃতির এই অদ্ভুত আয়োজন প্রমাণ করে, ভয় আর সৌন্দর্য কখনও কখনও একইসঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে। কানাডার এই “সাপেদের হানিমুন স্পট” তাই আজ বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও বিস্ময়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।















