আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণ করেছে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তারপর নতুন সরকার, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথাও উঠে আসে তাঁর বার্তায়। রাজ্যে সরকার গঠনের পরই আওয়ামী লিগের তরফে এই বিবৃতি জারি করা হয়েছে।

রাজ্যের নবনির্বাচিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের আওয়ামী লিগের সভাপতি। বাংলায় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি-র জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন হাসিনা। বিবৃতিতে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের তরফেও আন্তরিক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা জানান হয়েছে। হাসিনা রাজ্যের জনগণের এই রায়কে শুভেন্দু অধিকারীর বলিষ্ঠ এবং জনমুখী নেতৃত্বের প্রতি তাঁদের গভীর ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ বলেই আখ্যা দিয়েছেন। 


বিবৃতিতে উঠে এসেছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কথা। হাসিনা বলেছেন, "বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে বিদ্যমান অকৃত্রিম বন্ধুত্বের ইতিহাসে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা অনন্য। আমাদের অভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যগত যে নাড়ির বন্ধন রয়েছে, আমি বিশ্বাস করি তাঁর নেতৃত্বে সেই সম্পর্ক আগামীতে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।"  তিনি আরও বলেন, "প্রতিবেশী হিসাবে আমরা সবসময়ই পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধি এবং শান্তি কামনা করি। আমি আশা করি, আমাদের মধ্যেকার পারস্পরিক সহযোগিতার যে সুদীর্ঘ পরম্পরা রয়েছে, তা শুভেন্দু অধিকারীর মেয়াদে আরও গতি পাবে এবং দুই বাংলার মানুষের অভিন্ন উন্নয়ন ও কল্যাণে আমরা একে অপরের সহযোগী হয়ে কাজ করে যাব।"

উল্লেখ্য, শনিবার শপথ গ্রহণ করে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার। কালীঘাট মন্দিরের আদলে ব্রিগেডে শপথগ্রহণের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এ দিনে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি বাংলার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু। এদিনে অনুষ্ঠান মঞ্চেই দেখা গেল এক অন্য দৃশ্য। শপথ গ্রহণের কিছু আগে এক বৃদ্ধের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন এবং তাঁকে সংবর্ধনা জানান খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং মাখনলাল সরকার।