আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হলেও এখনও কোনও রফাসূত্র বেরোচ্ছে না। আমেরিকা-ইরানের সংঘাত নয়া মোড় নিয়েছে। জ্বালানির চিন্তায় কপালে ভাঁজ বিশ্ববাসীর। তার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খোলা হলেও জ্বালানিবহনকারী জাহাজ চলাচলে ইরান শুল্ক চাপাবে কী না, তা নিয়েও চিন্তায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

 

বর্তমানে ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা চলছে ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশের। এ জন্য ছ'দিনব্যাপী কূটনৈতিক সফরে গিয়েছেন ব্রিটেনের বিদেশসচিব ইভেট কুপার। ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ার মোট ১১টি দেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন কুপার। আলোচনা হয় পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং ইউক্রেনের সঙ্গে। সোমবার টোকিওতে ছিল জাপানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে শেষ দফার বৈঠক। জানা গিয়েছে, স্বল্পমেয়াদি এই সফরে আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে পাকিস্তানের দ্বৈতকে সাধুবাদ জানিয়েছে ব্রিটেন। একইসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী কুপার সব দেশের জন্য হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়ার উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

 

মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ। তবে আশঙ্কা, হরমুজ়ে আমেরিকার অবরোধ এবং ইরানি জাহাজ দখলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা মঙ্গলবারের আগেই ফের সংঘর্ষ শুরু করে দিতে পারে। এর মধ্যে পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসার কথা ছিল ইরান এবং আমেরিকার প্রতিনিধিদের। ট্রাম্প আলোচনার জন্য প্রতিনিধিদল পাঠিয়েও দিয়েছেন। কিন্তু তেহরান বৈঠক খারিজ করে দিয়েছে। জানিয়েছে, আমেরিকার অতিরিক্ত চাহিদা এবং হরমুজ়ে অবরোধের কারণে বৈঠকে যোগ দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

 

তবে যুদ্ধবিরতির শেষে হরমুজে যাতায়াতকারী জাহাজে শুল্ক চাপানোর উপরও তীব্র বিরোধিতা করেন ব্রিটেনের বিদেশমন্ত্রী। বলেন, "বিশ্বের সমস্ত দেশকে একজোট হয়ে এর বিরোধিতা করতে হবে। যুদ্ধ শেষে যাতে অবাধে জাহাজ চলাচল করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই সমস্ত দেশকে জোটবদ্ধ হতে হবে।" তাঁর আশঙ্কা, যদি ইরান হরমুজে জাহাজ চলাচলে কোনওরকম বাধা সৃষ্টি করে বা শুল্ক চাপায়, তা হলে তা বিশ্ব অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

প্রসঙ্গত, সূত্রের খবর, পাকিস্তানি সেনা প্রধানের আসিম মুনীরের পরামর্শে ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজে শীঘ্রই মার্কিন নৌবহরের তুলতে পারে বলে জানা গিয়েছে।