আজকাল ওয়েবডেস্ক: হামলা চলছেই। এবার পরিস্থিতি বিচারে বড় সিদ্ধান্ত ভারতের। দুটি ভারতীয় জাহাজে গোলাবর্ষণের পর হরমুজে ট্যাঙ্কারদের জন্য নতুন সতর্কতা জারি করেছে নয়া দিল্লি। ভারত পারস্য উপসাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে লারাক দ্বীপ থেকে দূরে থাকতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল তাদের নির্দেশেই দ্বীপটি অতিক্রম করতে বলেছে। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে তথ্য, হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা সমস্ত ভারতীয় জাহাজের নিরাপত্তাকে ভারতীয় নৌবাহিনী অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
১৮ এপ্রিল ওই দুই ভারতীয় জাহাজের উপর হামলা চালায় ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ড কর্পস। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, পরিস্থিতি অন্য মোড় নেওয়ার পর, এখনও পর্যন্ত এগারোটি ভারতীয় জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ ট্যাঙ্কার ‘দেশ গরিমা’ ১৮ই এপ্রিল হরমুজ পার হয়। একই দিনে, প্রণালীটি পার হওয়ার সময় ইরানি রক্ষীদের গুলিবর্ষণের শিকার হয়ে ‘জাগ অর্ণব’ এবং ‘সানমার হেরাল্ড’ নামের দুটি ভারতীয় জাহাজকে মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে হয়।
প্রণালীটি পার হওয়ার পর, ‘দেশ গরিমা’ এখন আরব সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর পাহারায় রয়েছে। তথ্য, ২২শে এপ্রিল জাহাজটির মুম্বই পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্যম, হামলার ঘটনাটি সামনে আসে, যখন শনিবার হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে একটি ছিল একটি সুপারট্যাঙ্কার, যা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি তেল বহন করছিল। গুলিবর্ষণের পর জাহাজ দু’টি পথ পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি-র নৌবাহিনীর নৌকা থেকে এই গুলি চালানো হয়। এর আগে কেশম ও লারাক দ্বীপের মাঝামাঝি এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যায়, যার ফলে একাধিক জাহাজ যাত্রা বাতিল করে। এমনকি একটি কন্টেনার জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার সময় বেশ কিছু জাহাজে বার্তার মাধ্যমে ঘোষণা করা হয় যে হরমুজ প্রণালী “সম্পূর্ণভাবে বন্ধ” করে দেওয়া হয়েছে। সেই বার্তায় বলা হয়, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায়, ইরান হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করছে। কোনও দেশের কোনও জাহাজ এই পথ দিয়ে যেতে পারবে না।”
এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার তৎপরতা দেখায়। নয়াদিল্লি তেহরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়, জাহাজ ও নাবিকরা আপাতত নিরাপদে থাকার বিষয়টি।















