আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার জন্য দ্বিতীয় দফার আলোচনা ইতিমধ্যেই অনিশ্চয়তার মুখে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির হস্তক্ষেপ করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় একটি বড় বাধার কথা তুলে ধরেছেন।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, আসিম মুনিরের সঙ্গে ফোনালাপ হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মুনির ট্রাম্পকে জানান, ইরানের বন্দরগুলির উপর মার্কিন অবরোধই আলোচনার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্রের দাবি, ট্রাম্প মুনিরের পরামর্শ বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে হয়েছে যখন ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনার সম্ভাবনা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তেহরান ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা এই আলোচনায় অংশ নেবে না। ফলে প্রায় দু’মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে যুদ্ধবিরতি জারি রাখার প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা লেগেছে। সম্প্রতি তিন দিনের তেহরান সফরে গিয়ে আসিম মুনির ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সেখানে তিনি ইরানের বিদেশমন্ত্রী এবং শীর্ষস্তরের সামরিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেন বলে পাকিস্তানের তরফে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে এই মাসের শুরুতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাগের ঘালিবাফ ইসলামাবাদে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
গত কয়েক দশকের মধ্যে এটাই ছিল দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মুখোমুখি আলোচনা। যদিও দুই দেশের বৈঠকের পরেও পরিস্থিতির বিশেষ কোনও উন্নতি হয়নি।
সপ্তাহান্তে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় যখন জানা যায়, মার্কিন বাহিনী একটি ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ আটক করে। অভিযোগ, ওই জাহাজটি অবরোধ ভেঙে বন্দরে ঢোকার চেষ্টা করছিল।
এর জবাবে ইরানের সেনা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেয়। একইসঙ্গে আরাঘচি পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীকে জানান, ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনার এই পদক্ষেপই আসন্ন আলোচনায় বাধা দিচ্ছে।
তেহরানের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’, অবস্থান পরিবর্তন এবং বন্দর অবরোধ এই সব কারণেই তারা আলোচনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
তাদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে। এদিকে, ইরানের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি মহম্মদ রেজা আরেফ একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ওয়াশিংটনের নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
তাঁর অভিযোগ, একদিকে আলোচনা চালানোর কথা বলছে আমেরিকা, অন্যদিকে চাপ সৃষ্টি করে পরিস্থিতি আরও জটিল করছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে প্রথম দফার দীর্ঘ আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদ সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি মার্কিন যুক্তরাষ্টের প্রস্তাব না মেনে নেয়, তবে আবার হামলা চালাবে আমেরিকা। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু গুঁড়িয়ে দেব।’















