আজকাল ওয়েবডেস্ক: আশঙ্কা ছিল। শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরেই তড়িঘড়ি জারি হয়েছিল সুনামির সতর্কতাও। এর কয়েক মিনিট পরেই জাপানের উপকূলে আছড়ে পড়ল রাক্ষুসে ঢেউ। 

এদিন ভূমিকম্পের প্রায় ৪০ মিনিট পর ইওয়াতের কুজি বন্দরে ৮০ সেন্টিমিটার (৩১ ইঞ্চি) উচ্চতার একটি সুনামির ঢেউ আঘাত হানে। ভূমিকম্পের জেরে টোকিও থেকে আওমোরি পর্যন্ত বুলেট ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার সংবাদমাধ্যম।

 

সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টে ৫৩ মিনিটের দিকে জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এদিন জাপানের উত্তর-পূর্বে তোহোকু এলাকায় জোরালো কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৪। এখনও পর্যন্ত হতাহতের ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে তড়িঘড়ি সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে টোকিওতেও কম্পন অনুভূত হয়। এদিন ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সানরিকু উপকূলের কাছে। ভূমিকম্পের জেরে উপকূলে প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। বিশেষত ইওয়াতে ও হোক্কাইডো অঞ্চলে সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি। 

 

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নদী ও উপকূলীয় এলাকা বাসিন্দাদের তড়িঘড়ি সরে গিয়ে দ্রুত উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সুনামি সতর্কতা যতক্ষণ জারি রয়েছে, ততক্ষণ নিরাপদ আশ্রয় থেকে কাউকে সরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

 

গত ৩১ ডিসেম্বর, বুধবার জাপানের নোদা শহরে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ইউএসজিএস জানিয়েছে যে ভূমিকম্পটি নোদা থেকে প্রায় ৯১ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে এবং ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ১৯.৩ কিলোমিটার। যদিও কম্পনের কারণে কোনও ক্ষয়ক্ষতির হিসেব সামনে আসেনি। 

 

এর আগে, ৮ ডিসেম্বর, সোমবার স্থানীয় সময় রাত সওয়া ১১টায় জাপানের উত্তর ও পূর্বের একটি বড় অংশে ভূমিকম্প আঘাত হানার পর হোক্কাইডো, আওমোরি এবং ইওয়াতে প্রিফেকচারের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। সোমবার রাতে (স্থানীয় সময়) ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে জাপান উপকূল। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছিল, ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সতর্কাতা জারি করা হয়। উপকূল এলাকায় তিন মিটার উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ে কম্পনের জেরে। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে প্রশাসন। 

 

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের মার্চ জাপানে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৯। এই ভূমিকম্পের পরেই ভয়াবহ সুনামি আছড়ে পড়েছিল জাপানে। ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৮ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।