আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরান তাদের মজুত রাখা সমস্ত "পারমাণবিক ধূলিকণা" বা ইউরেনিয়াম শেষ পর্যন্ত আমেরিকার হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে। গত বছরের জুন মাসে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রে মার্কিন বিমান হামলার পর ভূগর্ভস্থ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বোঝাতেই ট্রাম্প মূলত এই বিশেষ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন। 

যদিও তেহরান বা মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও  আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা মেলেনি, তবে ট্রাম্পের এই দাবি সত্য হলে তা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কমানোর পথে এক ঐতিহাসিক মোড় হতে পারে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানকে আর নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে দেওয়া হবে না এবং মাটির গভীরে চাপা পড়ে থাকা ওই তেজস্ক্রিয় উপাদানগুলো সরিয়ে ফেলতে আমেরিকা সরাসরি কাজ শুরু করবে।

গত বছরের হামলার আগে পর্যন্ত ধারণা করা হতো যে, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ছিল, যা খুব সহজেই সমরাস্ত্র তৈরির উপযোগী জ্বালানিতে রূপান্তর করা সম্ভব। যদিও ইরান বারবার দাবি করেছে যে তাদের এই কর্মসূচির একমাত্র লক্ষ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই যুক্তিতে খুব একটা ভরসা পাচ্ছেন না। পরিসংখ্যান বলছে, ইরানের একমাত্র সচল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেশের মোট চাহিদার মাত্র ১ শতাংশ মেটাতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের খনি থাকা সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুতের পেছনে এই বিপুল বিনিয়োগের পেছনে অন্য কোনও  উদ্দেশ্য থাকা অস্বাভাবিক নয়।

বর্তমানে ইরানের এই বিতর্কিত ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার মূলত ইসফাহান এবং নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা মনে করছে। আমেরিকার মূল উদ্বেগ ছিল এই যে, এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যে কোনও  সময় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে। সেই ভয় থেকেই গত বছর ইজরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে বিমান হামলা চালায় ট্রাম্প প্রশাসন। 

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সেই হামলায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকাংশ যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে গিয়েছে। ইরান দীর্ঘকাল ধরেই বলে আসছে তারা পারমাণবিক অস্ত্র চায় না, তাই ভবিষ্যতে অস্ত্র না তৈরির মৌখিক প্রতিশ্রুতি খুব একটা কার্যকর নাও হতে পারে। তবে যদি তারা সত্যিই তাদের বিদ্যমান ইউরেনিয়াম মজুত আমেরিকার হাতে তুলে দিতে রাজি হয়, তবে তা হবে এক বিশাল কূটনৈতিক বিজয়। তবে ইরান যদি গোপনে পুনরায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা বজায় রাখে, তবে এই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।