আপনি যদি কখনও কোনও সরকারি দপ্তরে ঢুকে থাকেন, তাহলে হয়তো একটি অদ্ভুত জিনিস আপনার চোখে পড়েছে— কোনও আধিকারিকের চেয়ারের পিছনে ঝোলানো একটি ঝকঝকে সাদা তোয়ালে।
2
9
এই ছোট বিষয়টি আশ্চর্যজনকভাবে ইতিহাস, পদমর্যাদা এবং প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ভাইরাল হয়েছে, যখন রাজনীতিবিদ গুরদীপ সিং সাপ্পাল এক্স-এ একটি বিশদ পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে এই ধরনের প্রথা ভারতের আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে গভীরভাবে গেঁথে গিয়েছে।
3
9
গল্পটি ব্রিটিশ আমলের, তখন আধিকারিকরা ভারতের আবহাওয়ায় ঘোড়ায় চড়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতেন। ধুলো, ঘাম এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের অভাবে সাদা তোয়ালে স্বাস্থ্যবিধির এক অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ ক্ষণ কাজ করার সময় ঘাম মুছতে এবং কিছুটা স্বস্তিতে থাকতে এগুলি ব্যবহৃত হত।
4
9
স্বাধীনতার পর ঘোড়ার ব্যবহার কমে গেল, অফিসগুলি আধুনিক হল এবং এয়ার কন্ডিশনার চলে এল, কিন্তু তোয়ালে রয়েই গেল। সেগুলি চেয়ারের উপরেই থেকে গেল, ধীরে ধীরে কার্যকারিতার চেয়ে ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে উঠল।
5
9
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, সাদা তোয়ালে একটি ব্যবহারের জিনিস থেকে কর্তৃত্বের এক সূক্ষ্ম প্রতীকে রূপান্তরিত হল। এটি সাধারণত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা যাঁদের হাতে ছিল, তাঁদের জন্যই সংরক্ষিত থাকত।
6
9
গুরদীপ উল্লেখ করেছেন যে, তোয়ালে একটি বৃহত্তর ব্যবস্থারই অংশ মাত্র। তিনি লিখেছেন, “শুধু তোয়ালেই নয়, টেবিলের আকার এবং কালির রংও পদমর্যাদা দ্বারা নির্ধারিত হয়।” অনেক অফিসে, এমনকি আসবাবপত্র এবং বিন্যাসও সূক্ষ্মভাবে পদমর্যাদা ও ক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
7
9
তিনি যে সবচেয়ে চমকপ্রদ উদাহরণগুলো দিয়েছিলেন, তার মধ্যে একটি ছিল কালির রঙ নিয়ে। তিনি লিখেছেন, “আধিকারিকরা ফাইলে কোন রঙের কালি ব্যবহার করতে পারবেন, তা নিয়ে ভারতের সরকার ১৩ মাস ধরে বিতর্ক করেছিল।”
8
9
নিয়ম প্রয়োগের আগে বিষয়টি একাধিক বিভাগ যাচাই করেছিল। কনিষ্ঠ আধিকারিকরা নীল বা কালো কালি ব্যবহার করতেন, আর ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা লাল ও সবুজ কালি ব্যবহার করতেন।
9
9
সাদা তোয়ালে, ডেস্কের ওপর একটি লাল টেলিফোন এবং দরজায় নিযুক্ত একজন কর্মচারী। এই সবকিছু মিলে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যেখানে ক্ষমতার শুধু প্রয়োগই হয় না, তা দৃশ্যমানও হয়। এগুলি সরিয়ে ফেলাকে হয়তো সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু এটি শ্রেণিবিন্যাসের এক দীর্ঘস্থায়ী সংস্কৃতি। (সব ছবি সংগৃহীত)