আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করলেন এক ইরানি আইনপ্রণেতা। মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনায় ইসলামাবাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি বিষয়ক কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই। এই আইনপ্রণেতা দাশতেস্তান অঞ্চলের সাংসদ।
ইব্রাহিম রেজাইয়ের দাবি, মধ্যস্থতার জন্য যে ধরনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রয়োজন, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তার অভাব রয়েছে। 'এক্স' প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি পাকিস্তানকে "ভাল বন্ধু ও প্রতিবেশী" হিসেবে অভিহিত করলেও তাঁর যুক্তি, ইসলামাবাদ "উপযুক্ত মধ্যস্থতাকারী নয়" এবং তাদের ঝোঁক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের দিকেই বেশি থাকে।
রেজাই আরও অভিযোগ করেছেন যে, ইসলামাবাদ- ওয়াশিংটনের প্রকাশ্য সমালোচনা করা এড়িয়ে চলে এবং এমন সব ঘটনার কথা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয় (যেখানে তার মতে) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। বিশেষ করে লেবানন প্রসঙ্গ এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ সংক্রান্ত বিষয়ে। তিনি বলেন, "একজন মধ্যস্থতাকারীকে অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে, সর্বদা কোনও এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে থাকা তার সাজে না।"
আব্বাস আরাঘচি মধ্য এশিয়া ও শান্তি বৈঠক সম্পর্কিত অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও আলোচনা প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন। আরাঘচি সম্প্রতি মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ইসলামাবাদ সফর করেন এবং সেখানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও সঙ্কট সমাধানের সম্ভাব্য উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। এই প্রেক্ষিতে ইব্রাহিম রেজাইয়ের পাকিস্তান নিয়ে বক্তব্য বেশ তাৎপর্যবাহী।
ওমান থেকে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর আগে ইরানের এই বিদেশ প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ওমানে অবস্থানকালে তিনি সেদেশের সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল-সাইদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। সেখানকার আলোচনায় মূলত হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো প্রাধান্য পেয়েছিল।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আলোচনাগুলো কেবল পারমাণবিক ইস্যুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি নতুন আইনি কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব, ক্ষতিপূরণ দাবি, ভবিষ্যতে আর কোনও সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসলামাবাদে সংক্ষিপ্ত অবস্থানের পর, আরাঘচি তাঁর কূটনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে মস্কো যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তেহরান আলোচনা প্রক্রিয়ার গতি অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট রয়েছে।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো যখন কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, ইরান যদি আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে, তবে তারা স্বাধীনভাবেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। ওয়াশিংটন যখন তাদের নিজস্ব কূটনৈতিক উদ্যোগ থেকে কিছুটা সরে আসে এবং পাকিস্তানে পরিকল্পিত আলোচনার দ্বিতীয় দফা বাতিল করে দিয়েছে, ঠিক তার পরপরই ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "সংলাপ পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে ইরান নিজেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।" তিনি বলেন, "তারা (ইরান) যদি কথা বলতে চায়, তবে তারা আমাদের কাছে আসতে পারে কিংবা আমাদের ফোন করতে পারে। আপনারা তো জানেন, যোগাযোগের জন্য টেলিফোন রয়েছে। আমাদের কাছে অত্যন্ত চমৎকার ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।"















