আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিউজিল্যান্ড সফরের ঠিক আগেই দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন।
বৃহস্পতিবার এই প্রস্তাবিত চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে লাক্সন বলেন, এর ফলে ভারতীয় বাজারে নিউজিল্যান্ডের পণ্যের চাহিদা এক ধাক্কায় অনেক বাড়বে। অর্থাৎ, সে দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য বিরাট সুখবর।
এই চুক্তির অর্থনৈতিক লাভের কথা স্পষ্ট করে লাক্সন জানান, নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতে পাঠানো মোট রপ্তানি পণ্যের ৫৭ শতাংশের ওপর ‘প্রথম দিন থেকেই কোনও কর লাগবে না’।
সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ভারতের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তির হাত ধরে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে জোয়ার আসতে চলেছে। ভারতে আমাদের মোট রপ্তানির ৫৭ শতাংশ পণ্যই প্রথম দিন থেকে সম্পূর্ণ করমুক্ত হচ্ছে।”
আগামী ১০ ও ১১ জুলাই নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। পিএম লাক্সনের আমন্ত্রণে তাঁর এই রাষ্ট্রীয় সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে। গত প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন।
অকল্যান্ডে থাকার সময় মোদি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের সঙ্গে একান্তে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। সেখানে দুই দেশের সম্পর্কের সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।
সরকারি সূত্রে খবর, মোদির এই সফরের মূল লক্ষ্য বাণিজ্য, ব্যবসা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে তোলা। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই সমস্ত ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটাই মজবুত হয়েছে।
অকল্যান্ডে থাকাকালীন নিউজিল্যান্ডের প্রথম সারির শিল্পপতি এবং নামী ক্রীড়াবিদদের সঙ্গেও দেখা করবেন মোদি। সেই সঙ্গে সেখানে বসবাসকারী অনাবাসী ভারতীয়দের একটি বড় সমাবেশে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে মোদির এই তিন দেশীয় সফরের শেষ ঠিকানা নিউজিল্যান্ড। মূলত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং অতিপ্রয়োজনীয় খনিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নিজেদের অংশীদারিত্ব বাড়াতেই দিল্লির এই বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগ।
মোদির এই সফরের ফলে ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি, এই অঞ্চলে একটি মুক্ত ও অবাধ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
বর্তমান সময়ে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে দ্রুত বদল আসছে। একদিকে আমেরিকা ও চীনের সম্পর্ক, অন্যদিকে এই অঞ্চলে বেজিংয়ের ক্রমাগত দাদাগিরি বাকি দেশগুলির উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমাতে এবং একটি 'সুরক্ষিত' আন্তর্জাতিক সরবরাহ গড়ে তুলতে ভারত ও তার বন্ধু দেশগুলি এখন একজোট হচ্ছে।















