আজকাল ওয়েবডেস্ক: মানুষের দীর্ঘায়ু হওয়ার আজন্ম সাধ কি এবার পূরণ হতে চলেছে? ইউনিভার্সিটি অফ রোচেস্টারের বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণা অন্তত সেই আশাই দেখাচ্ছে। সমুদ্রের গভীরে বাস করা বো-হেড (Bowhead) তিমির জীবন রহস্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এমন এক বিশেষ প্রোটিনের সন্ধান পেয়েছেন, যা মানুষের আয়ু প্রায় ২০০ বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী 'নেচার'-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় গবেষক ভেরা গর্বুনোভা ও আন্দ্রেই সেলুয়ানভ জানান, বো-হেড তিমিরা সাধারণত দুই শতাব্দী পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এদের দীর্ঘ জীবনের মূল চাবিকাঠি হলো CIRBP নামক একটি ডিএনএ-রিপেয়ার প্রোটিন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর তুলনায় এই তিমির শরীরে এই প্রোটিনের উপস্থিতি প্রায় ১০০ গুণ বেশি।

সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা থেকে জন্ম নেয় ক্যান্সার বা বার্ধক্যের মতো সমস্যা। কিন্তু এই প্রোটিনটি তিমির শরীরে ক্ষতিকর জেনেটিক মিউটেশন জমতে দেয় না। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'পেটো-স প্যারাডক্স'—যেখানে বিশাল শরীরের তিমির কোটি কোটি কোষ থাকা সত্ত্বেও তারা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় না।

গবেষণার পরবর্তী ধাপে বিজ্ঞানীরা যখন এই তিমির প্রোটিন মানুষের কোষ এবং ফ্রুট ফ্লাই বা মাছির শরীরে প্রবেশ করান, তখন দেখা যায় তাদের ডিএনএ মেরামতের ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে এবং মাছির আয়ুও বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, শীতল পরিবেশে এই প্রোটিনের উৎপাদন শরীরে বেড়ে যায়, যা আমাদের জীবনযাত্রার ওপর পরিবেশের প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে।

যদিও এই আবিষ্কারটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং মানুষের ওপর এর সরাসরি প্রয়োগের আগে আরও দীর্ঘ গবেষণার প্রয়োজন, তবুও বিজ্ঞানীরা একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। যদি তিমির এই জীববিজ্ঞানকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা সম্ভব হয়, তবে ভবিষ্যতে মানুষ হয়তো কেবল শতায়ু নয়, বরং দুইশ বছর পর্যন্ত সুস্থ জীবন যাপন করতে পারবে।