আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্যাঙ্কিং জগতের অভিজাত অন্দরমহলে এমন এক কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশ্যে এসেছে যা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে নিউইয়র্কে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ব্যাঙ্ক 'জেপি মর্গান'-এর এক উচ্চপদস্থ মহিলা আধিকারিকের বিরুদ্ধে নিজের পুরুষ সহকর্মীকে যৌনদাস বা ‘সেক্স স্লেভ’ হিসেবে ব্যবহার করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, ৩৭ বছর বয়সী লর্না হাজদিনি তাঁর সহকর্মী চিরায়ু রানার ওপর দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়ন চালিয়েছেন।
নিউইয়র্ক আদালতে জমা দেওয়া এক সাক্ষীর বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার দিন লর্না হাজদিনি সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় চিরায়ু রানার অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন। সেখানে সোফায় ঘুমন্ত রানার এক বন্ধুর সামনেই তিনি সিগারেট ধরিয়ে বসে পড়েন এবং তাঁদের দুজনকে নিয়ে ‘থ্রিসাম’ বা একসঙ্গে সঙ্গম করার প্রস্তাব দেন। সাক্ষী দাবি করেছেন, লর্না তাঁকে রীতিমতো হুমকি দিয়ে বলেন, “আমি রানাকে নিয়ন্ত্রণ করি, তাই তোমারও আমাদের সাথে যোগ দেওয়া উচিত।” প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, পরে বেডরুম থেকে রানার আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল, যেখানে তিনি বারবার বলছিলেন, “দয়া করে থামো, আমি এটা করতে চাই না।”
৩৫ বছর বয়সী চিরায়ু রানা লর্নার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা ছাড়াও বর্ণবৈষম্য এবং মাদক খাইয়ে অচৈতন্য করে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, লর্না তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করতেন এবং দিনের পর দিন মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে রেখেছিলেন। অন্য এক সাক্ষী জানিয়েছেন, তিনি লর্নাকে জোরপূর্বক রানার ঘাড়ে চুমু খেতে এবং অশালীনভাবে স্পর্শ করতে দেখেছেন, যা রানাকে দৃশ্যত অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছিল।
এই ঘটনার পর ম্যানহাটন জেলা অ্যাটর্নির অফিস একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করলেও প্রমাণের অভাবে শেষ পর্যন্ত কোনো চার্জ গঠন করেনি। জেপি মর্গান কর্তৃপক্ষ এবং অভিযুক্ত লর্না হাজদিনি উভয়েই এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, রানার করা এই মামলা ভিত্তিহীন।
তবে এই গল্পের অন্য একটি দিকও উঠে আসছে। তদন্তে জানা গেছে, চিরায়ু রানা এর আগে তাঁর বাবার মৃত্যুর মিথ্যা খবর দিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে তিন মাসের সবেতন ছুটি নিয়েছিলেন। যদিও পরে ভার্জিনিয়ার পৈতৃক ভিটেতে তাঁর বাবাকে জীবিত পাওয়া যায়। এছাড়া গত বছর ইন্টারনেটে রানার একটি পোস্ট পাওয়া গেছে যেখানে তিনি একই ধরনের অভিযোগ এক পুরুষ বসের বিরুদ্ধেও করেছিলেন। আপাতত জেপি মর্গান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তাঁরা নিজস্ব তদন্তে এই ঘটনার কোনো সত্যতা পায়নি। তবে নিউইয়র্কের আদালতে নতুন করে মামলা দায়ের হওয়ার পর ব্যাঙ্কিং জগতের এই অন্ধকার অধ্যায়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।















