আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঈদের নমাজের পর নিজের পরিবারের সদস্যদের হাতে খুন হলেন সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার কমান্ডার বিলাল আরিফ সারাফি। প্রথমে ছুরি দিয়ে মার, তারপর গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এই লস্কর কমান্ডারকে। ঘটনাটি ঘটেছে, লাহোরের উপকণ্ঠে মুরিদকের কাছে। মুরিদ হল লস্কর-ই-তৈবার সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত সদর দপ্তরের কাছের এলাকা, যেখানে 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী অভিয়ান চালিয়েছিল।
এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে গোয়েন্দা সূত্রগুলো পারিবারিক বিবাদের সন্দেহ করছে। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটক করা হয়েছে।
কে ছিলেন বিলাল আরিফ সারাফি?
বিলাল আরিফ সারাফি ২০০৫ সাল থেকে রাষ্ট্রসংঘের তালিকাভুক্ত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ধারণা করা হয়, এই সংগঠনের জন্য তহবিল সংগ্রহ, অস্ত্র সংগ্রহের ব্যবস্থা করা এবং তাদের সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমে সহায়তা করার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
লস্কর-ই-তৈবার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব সারাফি সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে 'তৈবা কলোনি'-তে বসবাস করতেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার মূল কাজ ছিল মানুষকে আদর্শবাদী প্রশিক্ষণ দানের মাধ্যমে তাদের মগজধোলাই করা।
ভারতে সারাফির বিরুদ্ধে কোনও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা মামলা ছিল না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলোতে সারাফির হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী পরিস্থিতি ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিও ক্লিপগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভিডিওগুলোতে সারাফি নিহত হওয়ার পরে আম পাকিস্তানিদের মনের আতঙ্ক ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে যে, সারাফি নিথর দেহে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে এবং লোকজন ছোটাছুটি করে তাকে সহায়তা করার চেষ্টা করছেন।
