আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের দিকে আজ তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব। ইসলামাবাদেই সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।
এই বৈঠকের প্রভাব পড়তে পারে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ থেকে শুরু করে বিশ্বের অর্থনীতির ওপরেও। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এদিন আলোচনায় বসবে।
তবে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। হিজবুল্লাহর ওপর ইজরায়েলের হামলা এবং এর পাশাপাশি লেবাননকে চুক্তির আওতায় আনা হবে কি না তা নিয়ে মতবিরোধ এখনও কাটেনি দুই দেশের।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার সকালে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা প্রথম দফার বৈঠকে বসবেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার এই বৈঠকে অংশ নেবেন।
পাকিস্তানে রওনা হওয়ার আগে ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদী। আমার মনে হয় ফলাফল ইতিবাচক হবে।’ অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাগের গালিবাফ।
তার সঙ্গে থাকবেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। জানা গিয়েছে, মার্কিন প্রশাসন ইতিমধ্যেই একটি ১৫ দফার প্রস্তাব তৈরি করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ, দেশে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করা, সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার মতো প্রস্তাব দেওয়া হবে।
তবে লেবাননের অবস্থান নিয়ে এখনও টানাপোড়েন কাটেনি। ইরানের মতে, হিজবুল্লাহর ওপর যে কোনও হামলাই যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। পাকিস্তানও ইরানের অবস্থানকে সমর্থন করছে বলে জানা গিয়েছে।
কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মতে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ে না। শুক্রবার পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু না করে, তবে যুদ্ধবিরতি আর থাকবে না।
একই সঙ্গে ট্রাম্পও সতর্ক করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর যেন ইরানের তরফে যেন কোনও ধরনের টোল আরোপ না করা হয়।















