আজকাল ওয়েবডেস্ক:  মধ্য এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যে অবশেষে বড় স্বস্তির খবর। ইরান ঘোষণা করল যে সংঘাত-জর্জরিত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী আবারও সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার একদিন পরেই, যা আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।


বৃহস্পতিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। এই যুদ্ধবিরতির ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘর্ষ কিছুটা হলেও থামার আশা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই ইরান ঘোষণা করে যে হরমুজ প্রণালী এখন সম্পূর্ণভাবে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। 


বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পাড়ি দেয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে। সম্প্রতি সংঘাতের কারণে এই পথ প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল, যার ফলে তেলের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।


তবে প্রণালী পুনরায় খোলার ঘোষণার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড এবং অন্যান্য তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন সরবরাহ পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হতে পারে। 


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া মানে ইরান বিশ্বকে বার্তা দিচ্ছে যে তারা সংঘাত কমাতে এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। একই সঙ্গে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমী দেশের সঙ্গে চলা আলোচনাকেও ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে।


তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। অতীতে দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও মাঝেমধ্যে সংঘর্ষ বা উত্তেজনা পুনরায় বেড়ে উঠেছে। তাই অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা নয়, বরং একটি সাময়িক স্বস্তি মাত্র।


এর আগে, ইজরায়েলের লেবাননে হামলার জেরে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সেই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই বর্তমান যুদ্ধবিরতি এবং প্রণালী পুনরায় খোলা—দুটোই একসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 


সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়া বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় স্বস্তির খবর। এখন দেখার বিষয়, এই যুদ্ধবিরতি কতটা স্থায়ী হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এটি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।