ডোপ পরীক্ষায় ব্যর্থ মারাদোনা, এস্কোবারের খুন, পৃথিবী কাঁপানো বিশ্বকাপ ফুটবলের ১০ বিতর্ক
৮ জুন ২০২৬ ২০ : ০৯
- 1
- 17
আর মাত্র কয়েকদিন তারপরেই শুরু হবে বিশ্বকাপ ফুটবল। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই আমাদের পর্দায় ভেসে উঠবে লামিন ইয়ামাল, লিওনেল মেসিদের শিল্পকলা।
- 2
- 17
আমাদের মধ্যে যারা বছরের বেশিরভাগ সময় ধরে লক্ষ লক্ষ টাকার অবিশ্বাস্য সাপ্তাহিক বেতন পাওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে অভিযোগ করি, তাঁরাও আগামী কয়েক সপ্তাহ টিভির সামনে আঠার মতো আটকে যাব।
- 3
- 17
সব দেশের সেরা খেলোয়াড়রা যখন এক দেশে ভিড় জমাবেন, তখন শকুনের পালের মতো সংবাদমাধ্যমগুলি সুযোগসন্ধানী হয়ে যে কোনও ধরনের কারচুপি বা কেলেঙ্কারির খুঁজে বেড়াবে। আসুন দেখে নেওয়া যাক আমরা বিগত বিশ্বকাপগুলির শীর্ষ ১০টি কেলেঙ্কারি যা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে।
- 4
- 17
আন্দ্রে এস্কোবার হত্যাকাণ্ড (১৯৯৪)- ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক কাহিনী। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ১০ দিন পর, আয়োজক দেশ কলম্বিয়া প্রত্যাশা পূরণে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হলে, আমেরিকার বিপক্ষে একটি আত্মঘাতী গোলের জন্য দায়ী আন্দ্রে এস্কোবারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- 5
- 17
বোগোটা ব্রেসলেট (১৯৭০)- টুর্নামেন্টের আগে কলম্বিয়ায় কেনাকাটা করতে গিয়ে ববি মুর এবং ববি চার্লটন ফেঁসে যান। চার্লটনের স্ত্রীর জন্য একটি উপহার খুঁজতে তাঁরা একটি গয়নার দোকানে গিয়েছিলেন। কিন্তু দোকান থেকে বেরনোর সময় তৎকালীন ইংল্যান্ড অধিনায়ক মুরের বিরুদ্ধে ৬০০ পাউন্ড মূল্যের একটি ব্রেসলেট চুরির অভিযোগ ওঠে।
- 6
- 17
এক সপ্তাহ পর, মুরকে চার দিনের জন্য গৃহবন্দি করা হয়। পরিস্থিতিটি একটি আন্তর্জাতিক ঘটনায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। সৌভাগ্যবশত, তিনি অভিযোগ থেকে রেহাই পান এবং ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ খেলার আগেই মুক্তি পান। কিন্তু মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হতে আরও দু’বছর সময় লেগে যায়।
- 7
- 17
হ্যান্ড অফ গড (১৯৮৬) যে কোনও ইংরেজ ভক্তের জন্য এটি একটি বেদনাদায়ক বিষয়। কারণ ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো মারাদোনা এমন একটি গোল করেছিলেন যা ‘হ্যান্ড অফ গড’ নামে পরিচিতি লাভ করে। রেফারির নজর এড়িয়ে তিনি মাথা ব্যবহার না করে নির্লজ্জভাবে হাত ব্যবহার করেছিলেন।
- 8
- 17
এরপর কাটা ঘায়ে নুনের ছেঁটার মতো, তিন মিনিট পরেই তিনি ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। পাঁচজন খেলোয়াড় এবং গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে কাটিয়ে এমন একটি গোল করেন যা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
- 9
- 17
ডোপ টেস্টে ব্যর্থ মারাদোনা (১৯৯৪)- সর্বকালের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা। মারাদোনা নিষিদ্ধ এফেড্রিন সেবন করায় ডোপ টেস্টে ধরা পড়েন এবং টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কৃত হন। গ্রুপ পর্বে গ্রিসের বিপক্ষে গোল করার পর তাঁর কুখ্যাত বিস্ফারিত চোখের উদযাপনের পর থেকেই সন্দেহ দানা বাঁধে। তিনি আর কখনও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেননি।
- 10
- 17
ফরাসি ধর্মঘট (২০১০)- ফ্রান্স দলে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, রেমন্ড ডোমনেককে অকথ্য গালিগালাজ করার জন্য নিকোলাস আনেলকাকে দেশে ফেরত পাঠানো, অনুশীলন বন্ধ এবং টিম ডিরেক্টর জঁ-লুই ভ্যালেন্তিনের পদত্যাগ। ফ্রান্স মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে।
- 11
- 17
রোনাল্ডোর ফিটনেস (১৯৯৮) এই বছর বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের রোনাল্ডোর ফিটনেস কাহিনী আজও রহস্য। ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খেলা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি আবার দলে ফিরে আসেন।
- 12
- 17
গুজব রটে গিয়েছিল যে, গোড়ালির চোট, এরপর পেটের সমস্যা এবং সম্ভবত বিষক্রিয়ার কারণে খেলবেন না রোনাল্ডো। অবশেষে জানা যায় যে, ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি হওয়ায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল যে, শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তাঁকে খেলতে বাধ্য করা হয়েছিল। ব্রাজিল ম্যাচটি ৩-০ গোলে হেরে যায়।
- 13
- 17
ডাচ পুল পার্টি (১৯৭৪)- নেদারল্যান্ডস এবং আয়োজক দেশ পশ্চিম জার্মানির মধ্যে ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের রাতে, জার্মান ট্যাবলয়েড পত্রিকা ‘বিল্ড’ ডাচ খেলোয়াড়দের হোটেলের নিরাপত্তাকর্মীদের ঘুষ দিয়ে পুলের এলাকায় বেশ কিছু স্বল্পবসনা তরুণীকে পাঠিয়ে দেয়। ঠিক তখনই পাপারাজ্জিরা হাজির হয় এবং একটি কেচ্ছা তৈরি হয়। ফলস্বরূপ, ডাচ খেলোয়াড়রা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার জন্য মরিয়া হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁদের স্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরের দিন ডাচরা ২-১ গোলে ফাইনাল হেরে যায়।
- 14
- 17
জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার ষড়যন্ত্র (১৯৮২)- সম্ভবত বিশ্বকাপের সবচেয়ে নির্লজ্জ অবিচার। শিকার আলজেরিয়া। দুর্বল প্রতিপক্ষ আলজেরিয়ার কাছে হেরে গিয়ে জার্মানরা গ্রুপ পর্ব পার হতে পারবে না, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। জার্মানি এবং অস্ট্রিয়ার গ্রুপের শেষ ম্যাচটি খেলার কথা ছিল। উভয় দলই জানত জার্মানরা ১-০ গোলের জয় আলজেরিয়াকে ছিটকে দেবে এবং উভয় দলই পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছে যাবে। ম্যাচে জার্মানি একটি গোল করে। পরে কোনও দলই আর গোল করার ইচ্ছে দেখায়নি। এটি সম্ভবত যে কোনও বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বিরক্তিকর ম্যাচ।
- 15
- 17
জিদানের ঢুঁসো (২০০৬)- নায়কের পতন। ফ্রান্সকে ফাইনালে পৌঁছতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও, জিদান বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে মার্কো মেত্রাজ্জিকে নির্মমভাবে ঢুঁসো মেরে নিজেকে কলঙ্কিত করেন। এর ফলে ফ্রান্সকে খেলার বাকি সময় ১০ জনে খেলতে হয়। এরপর ইতালি পেনাল্টিতে বিশ্বকাপ জিতে নেয়।
- 16
- 17
আর্জেন্টিনাকে ছয় গোল উপহার (১৯৭৮)- আয়োজক আর্জেন্টিনার জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল। কারণ ফাইনালে যাওয়া থেকে ব্রাজিলকে আটকাতে তাদের চার গোলে জিততে হতো। তাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পেরু। ভাল লড়াই শুরু করা সত্ত্বেও, শীঘ্রই তাদের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে এবং আর্জেন্টিনাকে ৬টি গোল উপহার দিয়ে ফাইনালের পথ সহজ করে দেয়।
- 17
- 17











