আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে সোমবার সকালে আঘাত হানল শক্তিশালী ভূমিকম্প। আর তাতেই এখনও পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফিলিপিন্স সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন। কার্যালয়ের পরিচালক রদ্রিগো সসমিনা জানান, ১২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গিয়েছে। তাঁরা সবাই সকসসারজেন অঞ্চলের বাসিন্দা। এই অঞ্চল চার প্রদেশ ও একটি শহর জুড়ে বিস্তৃত। ভূমিকম্পে এই অঞ্চলে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২৯ জন।

 

জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) জানায়, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭.৮। ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জিএফজেড আরও জানিয়েছে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি। ফিলিপিন্সের জেনারেল সান্তোস শহরের পুলিশের মাস্টার সার্জেন্ট রবার্ট দাগোন বলেন, ‘অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আমি এখনই সেগুলোর নাম বলতে পারছি না। কারণ, আমরা উদ্ধারকাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি।’ তিনি জানান, বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। কিছু বাড়িও ধসে পড়েছে।

 

এর আগে জিএফজেড ভূমিকম্পটির তীব্রতা ৮.২ বলে উল্লেখ করেছিল। আর ফিলিপিন্সের সংস্থা ‘ফিভলকস’ জানায়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটি তীব্রতা ছিল ৭। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূপদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) ভূমিকম্পের তীব্রতা ৭.৭ বলে উল্লেখ করেছে।

 

ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপিন্স আর প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার ভূপদার্থবিজ্ঞান সংস্থাগুলো সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। আমেরিকার সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থাও এই ভূমিকম্পের পর সুনামির ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে। ফিভলকস তাদের সতর্কবার্তায় বলেছে, ভূমিকম্পের কারণে বেশ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আর এক মিটারের বেশি উচ্চতার ঢেউয়ের সুনামি কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফিলিপিন্সের সারাঙ্গানি প্রদেশের আলাবেল শহরের পুলিশের প্রধান বেনজি আনচেতা জানান, সকালে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান চলছিল। ওই সময় ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর পরপর পুলিশ ভবনে ফাটল দেখা দেয়।