আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরমুজ প্রণালী ঘিরে পশ্চিম এশিয়া টালমাটাল। এই উত্তেজনার আবহে এ বার মুখ খুললেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। 

সোমবার সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। দীর্ঘ তিন বছর পর দুই নেতার ফোনালাপ। জিনপিং স্পষ্ট জানান, বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা জরুরি। সেই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত যুদ্ধবিরতির ডাক দিয়েছেন তিনি।

চীনের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, জিনপিং সৌদি যুবরাজকে জানিয়েছেন, তারা চায় আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই যুদ্ধের নিষ্পত্তি হোক। তাঁর কথায়, ‘‘হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা শুধু এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই জরুরি।’’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ। আমেরিকার নৌ-অবরোধ ও ইরানের অনড় অবস্থানে বিশ্ববাজারে তেলের জোগানে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ বন্ধ হওয়া চীনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের মোট আমদানি করা তেলের ৪০ শতাংশ আসে সে দেশ থেকে। পাশাপাশি, এই অশান্তির জেরে আরবের দেশগুলোতে চীনের রপ্তানি বাণিজ্য এক ধাক্কায় প্রায় ৪৩ শতাংশ কমে গিয়েছে। তাই ব্যবসায়িক ক্ষতি সামাল দিতেই জিনপিং এখন ময়দানে নেমেছেন বলে অনুমান কূটনৈতিক মহলের।

গত শুক্রবার ইজরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ বিরতির পর ইরান জলপথ খুলে দিতে চেয়েছিল। এদিকে আমেরিকা তাদের অবরোধ না তোলায় পরিস্থিতি ফের জটিল হয়ে ওঠে। 

এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে জিনপিং সৌদি আরবের কাছে সওয়াল করেছেন, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর উচিত নিজেদের কথা ভাবা। অর্থাৎ, নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর অতিনির্ভরতা কমানোরই ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। 

উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঠিক একই কথা বলেছিলেন। তবে তাঁর লক্ষ্য ছিল ইরান সরকার, আর জিনপিংয়ের নিশানায় খোদ আমেরিকা। আমেরিকা ইরান মধ্যস্ততায় বর্তমানে চীনও সক্রিয়৷