আজকাল ওয়েবডেস্ক: যত যাই হোক, হরমুজ নিয়ে অনড় ইরান। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের আবহে নিজেদের অবস্থান জানাল তারা। 

তেহরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কোনওমতেই স্বাভাবিক হবে না। সেই সঙ্গে সমুদ্রপথের নিরাপত্তার বিষয়টিও ইরানকে নিশ্চিত করতে হবে।

ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই নিক জানিয়েছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে যে কড়াকড়ি চলছে, তা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে- এটা তাঁরা জানেন। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, গত ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যে হামলা শুরু হয়েছে, তাতে ইরানের বহু শীর্ষ আধিকারিক প্রাণ হারিয়েছেন। সেই কারণেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যুদ্ধ পুরোপুরি না থামলে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুট বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়চড় করে বাড়ছে। চাপে পড়েছে পশ্চিমী দুনিয়া। 

এই পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন কিছু নিয়ম আনছে ইরান। 

নিয়মে কী থাকছে? 

ইজরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলির ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।

শত্রু দেশের জাহাজের যাতায়াতেও থাকবে কড়া নিয়ন্ত্রণ।

এমনকী, জাহাজ চলাচলের ওপর বিশেষ ‘টোল’ বসানোর পরিকল্পনাও করছে তেহরান। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে, এই টাকা দিয়ে তা কিছুটা মেটানো হবে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে চরম অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য তারাই নাকি আমেরিকার কাছে অনুরোধ করেছে। যদিও ইরান এই দাবি মানতে নারাজ। উল্টে রাষ্ট্রপুঞ্জে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরে আমেরিকা অশান্তি ছড়াচ্ছে ও ইরানের জাহাজ আটকে দিচ্ছে। 

ইরান চায়, আগে আমেরিকা তাদের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিক, তবেই জলপথ খোলার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হাঁড়িকাঠে ঝুলে রয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য। বর্তমানে প্রায় ২,০০০ পণ্যবাহী জাহাজ মাঝসমুদ্রে আটকে রয়েছে।