আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যেকার রেষারেষি এখন চরম পর্যায়ে। যুদ্ধবিরতি চললেও আলোচনার টেবিলে কোনও সমাধান মেলেনি। বিশ্বজুড়ে এখন জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের ‘আগ্রাসন’-এর কারণেই পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে এই অশান্তি।
এই টানাপড়েনের মধ্যেই জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌ-সচিব জন ফেলান পদত্যাগ করেছেন। পেন্টাগন জানিয়েছে, তাঁর এই ইস্তফা অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে। সূত্রের খবর, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশল নিয়ে শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে সংঘাতের জেরেই তাঁকে সরতে হয়েছে। তাঁর জায়গায় আপাতত দায়িত্ব সামলাবেন হং কাও।
সারা বিশ্বের তেল যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী৷ এই প্রণালী ঘিরেই এখন মূল লড়াই। আমেরিকা ওই এলাকায় অবরোধ করে রেখেছে। উল্টোদিকে ইরান জানিয়েছে, এই অবরোধ না সরলে তারা হরমুজ প্রণালী খুলবে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের দামে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান নতুন কোনও প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চলবে। এরই মাঝে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর বাতিল হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কতদিন থাকবে বা কবে শেষ হবে, তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে খোদ প্রেসিডেন্টের হাতে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আলোচনার কথা বললেও স্পষ্ট জানিয়েছেন, "প্রতিশ্রুতি ভাঙা আর অবরোধের মুখে দাঁড়িয়ে কোনওরকম আলোচনা সম্ভব নয়।"
ইতিমধ্যেই ইরান দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে নিয়ম ভাঙার অভিযোগে দু’টি বিদেশি জাহাজ আটক করেছে। একটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা করতে উদ্যোগী হয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার পাক অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী মহসিন নকভি মার্কিন রাষ্ট্রদূত নাতালি বেকারের সঙ্গে বৈঠক করেন। আল জাজিরার দাবি, দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জায়গা তৈরি করতেই এই বিশেষ বৈঠক।















