আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। এর মধ্যে তেহরানের দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
খবর অনুযায়ী, সোমবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের এই শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাবে তিনি রাজি নন। ইরান চেয়েছিল, এখনই পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমাধানে না গিয়ে শুধু হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ খুলে দিতে। কিন্তু ট্রাম্প সেই পথে হাঁটতে আগ্রহী নন।
মার্কিন প্রশাসনের কর্তাদের একাংশের মতে, পরমাণু অস্ত্র তৈরির জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে স্পষ্ট ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলে দিলে ইরানের ওপর থেকে চাপ তৈরির প্রধান অস্ত্রটিই হাতছাড়া হবে। যদিও এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে খোদ আমেরিকার বাজারেই হাহাকার পড়ে গিয়েছে।
ট্রাম্পের পরবর্তী চাল কী হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের শাসনব্যবস্থার অন্দরেই নানা মতভেদ রয়েছে। ফলে কার সঙ্গে চূড়ান্ত কথা হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছে আমেরিকা।
এর মধ্যেই ট্রাম্প তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন, যেখানে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
তবে তলে তলে কূটনৈতিক লড়াই যে জারি রয়েছে, সেই ইঙ্গিতও মিলছে। সূত্রের খবর, বাইরে অনড় ভাব দেখালেও পর্দার আড়ালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। মূল সমস্যা সেই একটাই- ট্রাম্প চান ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে। উল্টোদিকে ইরান তা মানতে একেবারেই নারাজ।
ইরানের পক্ষ থেকে কড়া ভাষায় জানানো হয়েছে যে, আমেরিকা আর আগের মতো খবরদারি করার অবস্থায় নেই। তাদের দাবি, ওয়াশিংটনকে আগে নিজেদের ‘অযৌক্তিক’ জেদ ছাড়তে হবে। মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে দেখা করে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও যুদ্ধের জন্য সরাসরি আমেরিকাকেই দায়ী করেছেন।
এই ডামাডোলের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের আকাশছোঁয়া। তিন সপ্তাহ পর অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন তেলের দাম পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা-ইজরায়েল এবং ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল। যুদ্ধ থামিয়ে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।















