আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধের এক মাস হল। এই একমাসব্যাপী ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আবহে এবার কিছুটা সুর নরম করার ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি না খুললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখতে চাইছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের পরিধি দীর্ঘ না করে দ্রুত ইতি টানাই এখন ট্রাম্পের লক্ষ্য।
প্রশাসনের একাংশের মতে, গায়ের জোরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ মুক্ত করতে গেলে যুদ্ধ নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যেতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই আপাতত ইরানের নৌসেনা ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে দুর্বল করে অভিযান গুটিয়ে নিতে চায় ওয়াশিংটন। এরপর জলপথটি খোলার জন্য তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ তৈরি করবে আমেরিকা। তাতে কাজ না হলে ইউরোপ ও উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে সামনে রেখে এগোতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।
যদিও গত এক মাসে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বারবার অবস্থান বদলেছেন ট্রাম্প। কখনও তিনি হুমকি দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জলপথ না খুললে ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোয় বোমাবর্ষণ করা হবে। আবার কখনও দাবি করেছেন, এই জলপথ বন্ধ থাকা আমেরিকার সমস্যা নয়, বরং অন্য দেশগুলোর সমস্যা।
এই টালবাহানার জেরে ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। চড়চড়িয়ে বাড়ছে জ্বলানির দাম। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জোগানে টান পড়ায় বিপাকে পড়েছে বহু দেশ। তা সত্ত্বেও তেহরান নিজের অবস্থানে অনড়।
আমেরিকার শান্তি প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা দিয়ে সোমবার ফের ইজরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। পাল্টায় ট্রাম্পও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কথা না শুনলে ইরানের তেল ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইজরায়েল সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, তা এখন গোটা পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও লেবাননের হিজবুল্লাও সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে।
সোমবারও ইয়েমেন থেকে আসা ড্রোন রুখে দিয়েছে ইজরায়েল। পাল্টা তেহরান ও বেইরুট লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেল আভিভ। এমনকী ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ার খবর মিলেছে। মাসখানেকের এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্ববাজারে৷















