আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ এখন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে। হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার ‘অবরোধে’ তেহরানের অবস্থা ক্রমেই শোচনীয় হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দীর্ঘমেয়াদি ‘অবরোধে’র মাধ্যমে কোণঠাসা করার ছক কষছেন। মাঝেমধ্যে সামরিক উত্তেজনার পথে না হেঁটে, নিরবচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক চাপে ইরানকে কাবু করাই এখন ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। 

ট্রাম্পের ধারণা, যুদ্ধ ও পিছু হঠা- দুই পথেই বিপদ বেশি। তার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের মাধ্যমেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সহজ। বিশ্বের তেলের বাজারের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালীকে হাতিয়ার করেই এই চাল দিয়েছে আমেরিকা। ওই জলপথে ইরানের তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে দিয়ে সরাসরি দেশের রোজগারের ওপর আঘাত হেনেছে ট্রাম্প সরকার। ফলে হু হু করে কমছে ইরানের তেল রপ্তানি। আঁচ পড়ছে গোটা দেশের অর্থনীতিতে।

পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, ইরানের হাতে এখন তেল মজুত করে রাখার মতো জায়গা নেই বললেই চলে। হিসাব বলছে, হাতে আর মাত্র ১২ থেকে ২২ দিনের ক্ষমতা রয়েছে। কার্যত তেলের ভাণ্ডার উপচে পড়ার জোগাড়। জায়গা না থাকায় শেষ পর্যন্ত ইরানকে তেলের উৎপাদন কমিয়ে দিতে হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে তাদের রাজকোষে।

বিপাকে পড়ে এখন হাত-পা ছুড়ছে ইরান। সমুদ্রে তেল ভাসিয়ে রাখতে বাতিল হয়ে যাওয়া পুরনো জাহাজ কাজে লাগানো হচ্ছে। ‘এম/টি নাশা’-র মতো বহু পুরনো ট্যাঙ্কার এখন তেলের গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এই ব্যবস্থা খরচসাপেক্ষ এবং ক্ষণস্থায়ী।

আমেরিকার কর্মকর্তাদের মতে, সংঘর্ষ এড়িয়ে ইরানকে দুর্বল করার এটাই সেরা পথ। এটিও কম ঝুঁকির নয়। এই টানাপড়েনের জেরে পারস্য উপসাগরে অশান্তি বাড়তে পারে। এমনকী বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ফুরিয়ে আসছে তেলের গুদাম। কোন পথে হাঁটবে ইরান? গোটা বিশ্ব মুখিয়ে সেদিকেই৷