আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান হামলার পর এবার পাল্টা আক্রমণ। গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ইজরায়েলের পেতাহ তিকভার একটি ড্রোন তৈরির কারখানা। ‘অ্যারো সোল অ্যাভিয়েশন সলিউশনস’ নামে ওই সংস্থার কারখানাটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, সেখানে কাজ চালানো আর সম্ভব নয়। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ওই কারখানা নতুন করে মেরামত করার সম্ভাবনাও কার্যত শেষ।
একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ইজরায়েলের সামরিক বাহিনীর কাছে এই কারখানার গুরুত্ব অপরিসীম। এখান থেকে সেনার জন্য ড্রোন, পাইলটদের বিশেষ হেলমেট এবং বোমার নানা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কারখানার ঠিক পাশেই আছড়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি। তাতে বিশাল গর্ত তৈরি হওয়ার পাশাপাশি গোটা এলাকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝে এই হামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
মজার বিষয় হলো, মাত্র কয়েক দিন আগেই ‘ভ্যালোরিক্স’ নামের একটি বড় সংস্থা ৩৫ মিলিয়ন শেকল দিয়ে অ্যারো সোল-কে কিনে নিয়েছিল। সংস্থার সিইও ইজরায়েল ভাসারলাফ-এর সন্দেহ, এটি কোনও সাধারণ হামলা নয়। বরং বেছে বেছেই তাঁদের কারখানাকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
তবে বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে এখানে সরঞ্জাম তৈরি হয়। তাই শত্রুপক্ষ তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর অনুমান।
ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিতে গিয়ে ভাসারলাফ জানান, বিস্ফোরণের জেরে কারখানার ঘরবাড়ি সব তছনছ হয়ে গিয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকেও কিছু ড্রোন, জরুরি নথি এবং কম্পিউটার ডেটা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সংস্থার দাবি, দৃশ্যত সব শেষ হয়ে গেছে মনে হলেও তাঁদের আসল প্রযুক্তি ও তথ্যগুলি সুরক্ষিত আছে। তাই দ্রুত অন্য কোথাও কারখানা সরিয়ে নিয়ে উৎপাদন শুরুর চেষ্টা চলছে।
প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তবে সিইও-র আশা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁরা বিকল্প উপায়ে সেনাকে সরঞ্জাম সরবরাহ শুরু করতে পারবেন। বিপদের এই সময় কর্মীরা রাত জেগে কারখানার সরঞ্জাম উদ্ধারে সাহায্য করেছেন।
ইজরায়েলের অন্যান্য প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলিও এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে অ্যারো সোল-কে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে।
















