আজকাল ওয়েবডেস্ক: শেষ পর্যন্ত সাময়িক স্বস্তির পথ বেছে নিল আমেরিকা-ইরান। মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক কয়েক মিনিট আগে দু’পক্ষের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে।

চুক্তির শর্ত মেনে ইরান আপাতত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ 'হরমুজ প্রণালী' খুলে দিতে রাজি হয়েছে। তবে এই বিরতির মধ্যেই নতুন করে অশান্তির খবর মিলেছে বাহরাইনে। সেখানে ইরানি ড্রোনের আঘাতে দু’জন আহত হয়েছেন বলে দাবি সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইরানের এই 'সমঝোতার' মধ্যে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ, ইজরায়েলি হানায় লেবাননের অবস্থাও বেশ শোচনীয়।

হোয়াইট হাউস সূত্রের দাবি, এই যুদ্ধবিরতিতে সায় দিয়েছে ইজরায়েলও। আর এই গোটা 'নাটকীয়' পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তান। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যস্থতাতেই দুই দেশ আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

আগামী শুক্রবার অর্থাৎ ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসছেন। পাকিস্তান এই বৈঠককে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে। 

অন্যদিকে, ইরান এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের 'ঐতিহাসিক জয়' হিসেবেই বর্ণনা করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই সেনাকে হামলা থামানোর নির্দেশ দিলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, লড়াই এখনই ফুরিয়ে যায়নি। তাঁর কথায়, “এটা যুদ্ধের শেষ নয়"। সর্বোচ্চ নেতার আদেশ মেনে আপাতত গুলি চালানো বন্ধ। 

পাশাপাশি ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে ইজরায়েলের ভূমিকা নিয়ে। হোয়াইট হাউস শান্তির কথা বললেও এক সামরিক কর্তার দাবি, ইরানে ইজরায়েলি অভিযান এখনও চলছে। এরই মধ্যে ইরাকের ইরান-পন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ঘোষণা করেছে, আগামী দু’সপ্তাহ তারাও সব রকম হামলা থেকে বিরত থাকবে। পশ্চিম এশিয়ার এই সাময়িক শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।