আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটিকে ‘ঐতিহাসিক’ জয় বলে দাবি করেছে তেহরান। এত কিছুর পরেও কি আশঙ্কা কাটেনি? যে কোনও সময় হতে পারে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন? এই আশঙ্কার কারণ, তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের একটি বার্তা। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস বুধবার নতুন নির্দেশিকা জারি করে ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশ ত্যাগ করার পরমার্শ দিয়েছে। কারণ, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।
নির্দেশিকায় দূতাবাসের তরফ থেকে বলা হয়েছে, “সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে, ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে এবং দূতাবাসের প্রস্তাবিত পথ ব্যবহার করে দ্রুত ইরান ত্যাগ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
দূতাবাস ভারতীয় নাগরিকদের অনুমতি ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকা এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, “দূতাবাসের সঙ্গে পরামর্শ ও সমন্বয় ছাড়া কোনও আন্তর্জাতিক স্থল সীমান্তের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়।”
ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে দূতাবাস জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। দূতাবাসের তরফ থেকে দেওয়া জরুরি মোবাইল নম্বরগুলির মধ্যে রয়েছে +৯৮৯১২৮১০৯১১৫, +৯৮৯১২৮১০৯১০২, +৯৮৯১২৮১০৯১০৯ এবং +৯৮৯৯৩২১৭৯৩৫৯। এছাড়াও cons.tehran@mea.gov.in এই ইমেলের মাধ্যমেও যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবারও একটি অ্যাডভাইজরি জারি করেছিল তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। সেই নির্দেশিকায় ইরানে থাকা সকল ভারতীয়দের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা তাদের বর্তমান অবস্থানেই থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। এর পাশাপাশি সামরিক ঘাঁটি, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানের নিকটে যাওয়া সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়াও নিরাপত্তার স্বার্থে বহুতল ভবনের উপরের তলায় না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য বিমান হামলা বা বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে উপরের তলাগুলি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলেই এই নির্দেশ। অ্যাডভাইজরিতে নাগরিকদের ঘরের ভেতরেই থাকতে এবং দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে যারা দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় হোটেলে থাকছেন, তাদের কঠোরভাবে ঘরের ভিতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে হোটেলে উপস্থিত দূতাবাসের কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এরপরেই ফের নতুন নির্দেশিকা জারি করল দূতাবাস।















