মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলায় এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে গেছে, যা দেখে রীতিমতো তাজ্জব বনে গেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কৃষ্ণপুরম কলোনির ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নীতু রাজাবত সোমবার বাপের বাড়ি গিয়েছিলেন। পরদিন ফিরে এসে দেখেন তাঁর তালাবন্ধ ঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে আছে। সোনা-রুপোর গয়না, নগদ টাকা এবং জরুরি নথিপত্র তো বটেই, চোরেরা এমনকি রান্নার এলপিজি সিলিন্ডারটিও নিয়ে চম্পট দিয়েছে।
2
6
এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এক সন্দেহভাজন চোর কাঁধে করে সিলিন্ডারটি নিয়ে এলাকা ছাড়ছে। এই ফুটেজ হাতে পাওয়ার পর কোতোয়ালি থানার পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছে এবং তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
3
6
তবে এই সিলিন্ডার চুরির ঘটনা কেবল একটি সাধারণ চুরি নয়, বরং বর্তমানে রাজ্যে এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে চলা সংকটের এক করুণ প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। শিবপুরীর পাশাপাশি ভোপালের লালঘাটি এলাকাতেও এক আইনজীবীর বাড়ি থেকে চারটি খালি সিলিন্ডার চুরির অভিযোগ সামনে এসেছে। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রদেশে প্রায় ১ কোটি ৭৬ লক্ষেরও বেশি গ্যাস গ্রাহক রয়েছেন।
4
6
বাজারের অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ বজায় রাখতে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব এবং খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী গোবিন্দ সিং রাজপুত নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। এমনকি কালোবাজারি ও মজুতদারি রুখতে রাজ্যজুড়ে ১,১১৬টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৮২৫টি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং বেশ কিছু এফআইআর করা হয়েছে।
5
6
সাধারণত দেখা যায় চোরেরা সোনা বা টাকার দিকেই হাত বাড়ায়, কিন্তু শিবপুরীর এই ঘটনায় সিলিন্ডার চুরি হওয়ার বিষয়টি বুঝিয়ে দিচ্ছে বাজারে রান্নার গ্যাসের চাহিদা এবং সংকট ঠিক কতটা চরমে পৌঁছেছে। নীতু রাজাবত পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর জীবনের সঞ্চয় এবং প্রয়োজনীয় নথির সঙ্গে সঙ্গেই দৈনন্দিন জীবনের অতি প্রয়োজনীয় গ্যাস সিলিন্ডারটি খোয়া যাওয়ায় তিনি এখন দিশেহারা।
6
6
পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে খুব শীঘ্রই অপরাধীদের পাকড়াও করা সম্ভব হবে। তবে এই বিচিত্র চুরির ঘটনা বর্তমানে শিবপুরী ছাড়িয়ে পুরো রাজ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।