আজকাল ওয়েবডেস্ক: শিকাগোর শহরতলিতে ঘটে যাওয়া একটি শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ড এখন গোটা এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করেছে। একটি সারপ্রাইজ বা চমক দেওয়ার নাম করে রাতের নির্জনে ডেকে নিয়ে গিয়ে নিজের সন্তানদের বাবা এবং তাঁর বাবা-মাকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে কাঠগড়ায় ৩০ বছর বয়সী জেনা স্ট্রুবল। গত ২২শে মার্চের সেই বিভীষিকাময় রাতে জেনা তাঁর প্রাক্তন সঙ্গী জ্যাকব ল্যাম্বার্টকে একটি ড্রাইভের প্রস্তাব দেন। জ্যাকব ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে সেই ড্রাইভই তাঁর জীবনের শেষ সফর হতে চলেছে।

প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেনা একটি নির্জন জায়গায় গাড়ি থামিয়ে জ্যাকবকে জানান যে তাঁর জন্য একটি বিশেষ চমক আছে। জ্যাকবের পিঠে ব্যথা থাকায় জেনা একটি ম্যাসাজ গান সাথে এনেছিলেন। তিনি জ্যাকবকে সিটটি হেলিয়ে দিয়ে শার্ট খুলে উপুড় হয়ে শুতে বলেন। এরপর প্রায় ২০ মিনিট ধরে তিনি জ্যাকবের পিঠ ম্যাসাজ করে দেন। কিন্তু সেই সেবার আড়ালেই লুকিয়ে ছিল মৃত্যুর নীল নকশা। ম্যাসাজ করার ফাঁকেই জেনা সিটের তলায় লুকিয়ে রাখা একটি সাইলেন্সার লাগানো গ্লক পিস্তল বের করেন। কয়েক মিনিট বন্দুকটি জ্যাকবের মাথার পেছনে ঠেকিয়ে রেখে ঠান্ডা মাথায় ট্রিগার টেপেন তিনি।

কিন্তু জেনার পৈশাচিকতা সেখানেই থেমে থাকেনি। ল্যাম্বার্টকে গুলি করার পর তিনি সেখানেই দাঁড়িয়ে একটি সিগারেট খান এবং এরপর গাড়ি চালিয়ে সরাসরি পৌঁছান ল্যাম্বার্টের বাবা-মায়ের বাড়িতে। জ্যাকবের চাবি দিয়েই তিনি ঘরে ঢোকার চেষ্টা করেন, কিন্তু তখনই দরজা খুলে দেন জ্যাকবের সৎ বাবা প্যাট্রিক ফোর্ড। দরজা খোলার সাথে সাথেই জেনা এলোপাথাড়ি ১৭ রাউন্ড গুলি চালান। গুলির শব্দে নিচে নেমে আসা ল্যাম্বার্টের মা স্ট্যাসি ফোর্ডকেও রেহাই দেননি তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই দম্পতির।

এই হাড়হিম করা ঘটনাটি সামনে আসে যখন জেনার নিজের বোন পুলিশকে ফোন করে জানান যে জেনা তিনজনকে খুন করার কথা স্বীকার করেছেন। জেনা তাঁর বোনকে বলেছিলেন যে জ্যাকবের সাথে তাঁর সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না এবং সন্তানদের প্রতি জ্যাকবের আচরণে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরে ইন্ডিয়ানা থেকে পুলিশ জেনাকে গ্রেপ্তার  করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটিও উদ্ধার করা হয়। জেরার মুখে জেনা স্বীকার করেছেন যে তিনি পরিকল্পনা করেই এই আক্রমণ চালিয়েছেন। জ্যাকবের বাবা-মায়ের প্রতি বিরক্তি এবং জ্যাকবের আচরণের প্রতি অসন্তোষই তাকে এই চরম অপরাধের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। বর্তমানে নয়টি ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের মামলায় জেনা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।