আজকাল ওয়েবডেস্ক:  মধ্য এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজে ফের উত্তেজনা। একটি ভারতীয় পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার থেকে প্রকাশ্যে আসা এক অডিও রেকর্ডিং গোটা ঘটনার নাটকীয়তা ও আতঙ্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। এই অডিওতে শোনা যাচ্ছে, কীভাবে গুলিবর্ষণের মাঝে পড়ে জাহাজের ক্যাপ্টেন প্রাণভয়ে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন।


অডিও ক্লিপে ট্যাঙ্কারের ক্যাপ্টেনকে বলতে শোনা যায়, “Sepah Navy! Sepah Navy! আপনি আমাকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন! আমি আপনার তালিকায় দ্বিতীয়! এখন কেন গুলি চালাচ্ছেন? আমাকে ফিরে যেতে দিন!”—এই বার্তা থেকেই স্পষ্ট, পরিস্থিতি কতটা হঠাৎ এবং বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল।


ঘটনাটি সামনে আসে, যখন শনিবার হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে একটি ছিল একটি সুপারট্যাঙ্কার, যা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি তেল বহন করছিল। গুলিবর্ষণের পর জাহাজ দু’টি পথ পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।


প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি-র নৌবাহিনীর নৌকা থেকে এই গুলি চালানো হয়। এর আগে কেশম ও লারাক দ্বীপের মাঝামাঝি এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যায়, যার ফলে একাধিক জাহাজ যাত্রা বাতিল করে। এমনকি একটি কন্টেনার জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।


ঘটনার সময় বেশ কিছু জাহাজে বার্তার মাধ্যমে ঘোষণা করা হয় যে হরমুজ প্রণালী “সম্পূর্ণভাবে বন্ধ” করে দেওয়া হয়েছে। সেই বার্তায় বলা হয়, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায়, ইরান হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করছে। কোনও দেশের কোনও জাহাজ এই পথ দিয়ে যেতে পারবে না।”


এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার তৎপরতা দেখায়। নয়াদিল্লি তেহরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, জাহাজ ও নাবিকরা আপাতত নিরাপদ রয়েছেন।


ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা দ্রুত নিরাপদ নৌযান চলাচল পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

 


অন্যদিকে, ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ড. আবদুল মজিদ হাকিম ইলাহি এই ঘটনার গুরুত্ব কিছুটা খাটো করে দেখিয়েছেন। তিনি জানান, “এই ঘটনার বিষয়ে আমি নির্দিষ্ট কিছু জানি না। তবে ভারত ও ইরানের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী, এবং আমরা আশা করি বিষয়টি দ্রুত মিটে যাবে।”
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুটে এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।