আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্যিক পদক্ষেপের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই বিশ্ব বাজারে সতর্কতা বেড়েছে। বিশেষত, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বজায় রাখে তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের আলোচনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করেছে। ভারতও সেই তালিকায় থাকতে পারে, কারণ ভারত বহুদিন ধরে ইরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ফলে বাজার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, এই নতুন শুল্কনীতির কারণে ভারতের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
মূল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২৫% সেকেন্ডারি ট্যারিফ ঘিরে। এই শুল্কটি সরাসরি ইরানের ওপর নয়, বরং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত দেশগুলোর ওপর আরোপের কথা বলা হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২৫% শুল্ক তেমন ভয়াবহ মনে না হলেও, সমস্যা তখনই বাড়বে যখন এই শুল্ক প্রচলিত শুল্কের ওপর যুক্ত হবে। অর্থাৎ কোনও দেশ যদি ইতিমধ্যে ৫০% ডিউটির আওতায় থাকে, তার ওপর বাড়তি ২৫% ট্যারিফ চাপলে মোট শুল্ক ৭৫% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এই খবরের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি ভারতের বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। ইরান সংক্রান্ত মার্কিন প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং নিষেধাজ্ঞা বাজারে চাপের পরিবেশ তৈরি করেছে। ভারত বহু বছর ধরে ইরানের সঙ্গে বিশেষ করে জ্বালানি খাতে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রেখেছে। ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি করেছে। ফলে ইরান সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা কঠোর হলে ভারতকে আলোচনার কেন্দ্রে টেনে আনা হবেই।
বর্তমান বাজার অস্থিরতা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে খুব বড় ক্ষতি নাও হতে পারে। শুল্ক ঘোষণায় প্রথমে বাজারে আতঙ্ক তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে তেলের সরবরাহ এবং ভেনেজুয়েলার অতিরিক্ত সরবরাহ চাপ কমিয়ে দিতে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও নীতিগত পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
প্রস্তাবিত ২৫% শুল্কটি আসলে “সেকেন্ডারি ট্রেড মেজার”—যা চলতি শুল্কের ওপর অতিরিক্তভাবে বসতে পারে। এই শুল্ক সরাসরি ইরানের ওপর নয়, বরং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বজায় রাখা দেশগুলোকে চাপ দিতে তৈরি করে। ফলে এটি চলতি শুল্কের ওপর যুক্ত হয়ে আগের শুল্কহারকে অনেক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পদক্ষেপ অর্থনৈতিকের চেয়ে কৌশলগত বেশি প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন বাজার আয়ের সিজন প্রবেশ করেছে এবং অর্থমন্ত্রী শিগগিরই কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন। ফলে বিনিয়োগকারীরা আপাতত খানিকটা ধরে খেলতে চাইছেন। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসলে কীভাবে শুল্ক প্রয়োগ করে, কাউকে ছাড় দেয় কিনা এবং ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় কী অবস্থান নেয় তার ওপর।
৭৫% শুল্ক এখনও বাস্তবতা নয়। নিকট ভবিষ্যতে শুল্কসংক্রান্ত খবর বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি বাজারের মৌলিক ভিত্তি তৈরি করবে। ফলে সেখান থেকে আগামী বাজেটের দিকেই সকলের নজর রয়েছে।
