কনকনে শীতকে উপেক্ষা করেই গঙ্গাসাগরে চলছে পুণ্যের ডুব। মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে ভোরের অন্ধকার কাটতে না কাটতেই লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থীর ঢল নেমেছে সাগরদ্বীপে।
2
8
হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, কুয়াশা আর উত্তাল সমুদ্রের মাঝেও বিশ্বাস আর ভক্তির টানেই গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গমে স্নান করছেন মানুষ। রাতভর অপেক্ষার পর ভোর হতেই “সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার”—এই মন্ত্র উচ্চারণ করে পুণ্যস্নানে নামছেন সাধু-সন্ন্যাসী থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্তরা।
3
8
অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন এই মহাতীর্থে। কনকনে শীত, ঠান্ডা হাওয়া আর ঠান্ডা জলের তোয়াক্কা না করেই গঙ্গাস্নানে অংশ নিচ্ছেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, মহিলা ও শিশুরাও।
4
8
সাগরদ্বীপের কপিলমুনির আশ্রম সংলগ্ন এলাকা থেকে সমুদ্রতট—সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে মানুষের ভিড়। কেউ স্নান শেষে পুজো দিচ্ছেন, কেউ দান-ধ্যান করছেন, আবার কেউ গঙ্গাজল মাথায় নিয়ে প্রণাম জানাচ্ছেন সূর্যদেবকে।
5
8
পুণ্যস্নানকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় এক ধর্মীয় আবহ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে প্রবল শীতের কারণে ভোগান্তির ছবিও ধরা পড়েছে। ভেজা কাপড়ে কাঁপতে কাঁপতে অনেককেই দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
6
8
পর্যাপ্ত পোশাক পরিবর্তনের ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যায় পড়ছেন বহু পূণ্যার্থী, বিশেষ করে মহিলারা। ঠান্ডা বাড়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে আসছে।
7
8
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য শিবির, অ্যাম্বুলেন্স ও স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারিতে রয়েছে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। তবুও ভিড়ের চাপে কিছু জায়গায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
8
8
সব প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করেই বিশ্বাসের জোরে চলছে গঙ্গাসাগরের পুণ্যের ডুব। পূণ্যার্থীদের মতে, কষ্ট যতই হোক, এই পবিত্র স্নানের মাহাত্ম্যই সব দুর্ভোগ ভুলিয়ে দেয়। গঙ্গাসাগর মেলা আবারও প্রমাণ করল—ভক্তির কাছে শীত, কষ্ট সবই তুচ্ছ।