আজকাল ওয়েবডেস্ক: কানাডার মাটিতে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে সে দেশের সরকারের সমালোচনা করলেন কানাডায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ পট্টনায়ক। মঙ্গলবার কানাডার একটি সরকারি বৈদ্যুতিন মাধ্যমে কড়া ভাষায় সে দেশের সরকারকে বিঁধে বলেন, “কানাডা সরকার তাদের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে ৪০ বছর ধরে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ।” তাঁর আরও অভিযোগ, “অটোয়ার দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তা ভারতের বিরুদ্ধে চরমপন্থা ও হিংসাকে উৎসাহিত করার মতো পরিবেশ তৈরি করেছে।”

অটোয়া এখন নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক জোড়া দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। ব্রিটিশ কলম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড এবি একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ভারতে এসেছেন। ঠিক সেই সময়ে এই সাক্ষাৎকারটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশগুলি তুলে ধরেছে। খালিস্থানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জারের হত্যাকাণ্ড এবং উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলির বিষয়ে কানাডার নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগগুলিই প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

চ্যানেলটির সঞ্চালক বারবার এই দাবি করেন যে, কানাডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা এবং পুলিশের কাছে নিজ্জারের হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় এজেন্টদের যুক্ত থাকার ‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্য’ রয়েছে। পট্টনায়েক এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, “প্রমাণ কোথায়। এগুলি এমন অভিযোগ যার পক্ষে কোনও প্রমাণ নেই। অভিযোগ করা সব সময়ই সহজ।”

আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি কানাডার দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, কানাডা কয়েক দশক ধরে উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কগুলিকে ভেঙে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা গত ৪০ বছর ধরে কানাডায় সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কথা বলছি। এ ব্যাপারে কেউ কিছু করেছে? একজন ব্যক্তিকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে?” পট্টনায়েক ১৯৮৫ সালের এয়ার ইন্ডিয়া বোমা হামলার পরিণতির কথা উল্লেখ করেন। ওই হামলায় ৩২৯ জন নিহত হয়েছিলেন। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন কানাডীয়। তিনি বলেন, “এয়ার ইন্ডিয়া বোমা হামলার তদন্তে এখনও কোনও ফল পাওয়া যায়নি।”

কানাডার বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন হাই কমিশনার। তিনি বলেন, ভারত যখন কানাডায় সক্রিয় সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বিষয়ে তথ্য দেয়, তখন কানাডা প্রমাণ দাবি করে। অথচ তারা ভারতের বিরুদ্ধে অপ্রমাণিত অভিযোগের বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে জবাব আশা করে। 

তিনি বলেন, “যখন আমরা কানাডা সরকারকে সে দেশে সক্রিয় জঙ্গিদের বিষয়ে তথ্য দিই, তখন কানাডার পক্ষ থেকে বলা হয় যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ নেই। গত ৪০ বছর ধরে আমাদের একই কথাই বলা হচ্ছে।”

এই সাক্ষাৎকারের সময়টি তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারত সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চেয়েছেন। পট্টনায়েক বলেছেন, একটি ক্ষতিকর বিরতির পর দুই পক্ষ আবার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে যে কোনও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক স্থাপনের জন্য নিরাপত্তার বিষয়ে কানাডার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।