আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরমুজ প্রণালীর কাছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। শুক্রবার একটি কাঠের পণ্যবাহী জাহাজে আগুন লেগে মৃত্যু হয়েছে এক ভারতীয় নাবিকের। ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন। জাহাজ থেকেই তাঁদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

 

সংবাদসংস্থা সূত্রের খবর, শুক্রবার সাধারণ পণ্যবাহী একটি কাঠের জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছিল। ওমানের মুসান্দাম প্রদেশের কাছে আচমকাই ওই জাহাজে আগুন লেগে যায়। ওই জাহাজে মোট ১৮ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। অগ্নিকান্ডে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান একজন। অন্য চার নাবিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুবাইয়ের হাসপাতালেই চলছে তাঁদের চিকিৎসা। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, ঘটনাস্থল থেকে ওমান কোস্ট গার্ড এবং রয়্যাল ওমান এয়ার ফোর্সের যৌথ তৎপরতায় উদ্ধার করা গেছে বাকি ১৩ জনকে। প্রাথমিক তদন্তে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা সম্ভব হয়নি। তবে মৃত নাবিকের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

 

জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতেই দুবাইয়ের ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকেরা আহত ভারতীয় নাবিকদের সঙ্গে দেখা করতে যান। পণ্যবাহী কাঠের জাহাজের মালিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয় দূতাবাসের তরফে। একইসঙ্গে নাবিকদের যথাসাধ্য সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আধিকারিকেরা।

খবর পেয়েই দ্রুত উদ্ধারকাজে নামে ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী ও বিমানবাহিনী। জল ও আকাশপথে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তারা জলন্ত জাহাজটি থেকে ১৭ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে খাসাব হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।

 

প্রসঙ্গত, গত ৭ এপ্রিল সংঘর্ষবিরতি শুরু হয়েছিল আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে। অথচ শুক্রবার ফের হুরমুজে চলল গুলি। প্রণালীর কাছে গুলি চলল! আমেরিকা এবং ইরান, দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ তুলেছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সংঘর্ষবিরতিতে ইতি পড়ল? আবার আমেরিকা এবং ইরান সংঘর্ষে জড়াবে? এই আবহেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানকে। তাঁর কথায়, ‘‘ইরান যদি শীঘ্রই কোনও চুক্তি না-করে, তবে তাদের উপর হামলা আরও তীব্র হবে!’’

 

গত ৭ এপ্রিল দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি শুরু হয়। তার পর থেকে সরাসরি সংঘাত দেখা যায়নি সে ভাবে। বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি জানিয়েছে, হরমুজ় প্রণালীর সংলগ্ন ইরানি সামরিক ঘাঁটি বানিয়েছে। সরাসরি আমেরিকার উপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল ইরানের। তাই আত্মরক্ষার্থেই হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। অন্য দিকে, ইরানের দাবি, তাদের ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তাদের প্রতিহত করতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরানও।