আজকাল ওয়েবডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানকে সাহায্য করার কথা স্বীকার করল চীন। সে দেশের সংবাদপত্র সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (এসসিএমপি) -এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, গত বছর ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের সময় তারা পাকিস্তানকে ঘটনাস্থলে টেকনিক্যাল সহায়তা প্রদান করেছিল।
এসসিএমপি-র প্রতিবেদন অনুসারে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি-তে বৃহস্পতিবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অফ চায়না (এভিআইসি)-র ইঞ্জিনিয়াররা ওই অভিযানে পাকিস্তানকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের কথা বর্ণনা করেছেন। এই স্বীকারোক্তিটি ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে চীনের ভূমিকার বিষয়ে বেজিংয়ের তরফ থেকে প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এভিআইসি-এর চেংডু এয়ারক্রাফট ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইঞ্জিনিয়ার ঝাং হেং সংঘাত চলাকালীন পাকিস্তানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি চীনের উন্নত যুদ্ধবিমান এবং মনুষ্যবিহীন আকাশযান তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
এসসিএমপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঝাং হেং বলেন, “সহায়ক ঘাঁটিতে আমরা প্রায়ই যুদ্ধবিমানের উড়ানেক গর্জন এবং বিমান হামলার সাইরেনের একটানা আর্তনাদ শুনতাম। মে মাসের বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যেত। এটা আমাদের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে এক চরম অগ্নিপরীক্ষা ছিল।”
এই প্রথম চীন স্বীকার করেছে যে তাদের কর্মীরা পাকিস্তানকে স্থলভাগে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে। পাকিস্তানের বিমানবাহিনী চীনের তৈরি জে-১০সিই জেট পরিচালনা করে, যা এভিআইসি-র একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করে। ঝাং হেং জানিয়েছেন, তাঁর দলকে যা অনুপ্রাণিত করেছে তা হল সহায়তার ক্ষেত্রে আরও ভালভাবে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা এবং তাঁদের সরঞ্জাম যেন সত্যিই পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করা।
জে-১০সি ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ জে-১০সিই-কে জে-১০ সিরিজের সবচেয়ে উন্নত মডেল হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচনা করা হয়। চীনের বাইরে জে-১০সি ব্যবহারকারী একমাত্র দেশ হিসেবে পাকিস্তানই আছে। ইসলামাবাদ ২০২০ সালে ২৫০টি পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রসহ ৩৬টি যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছিল।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায় যে, পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামের বিপুল পরিমাণ, অর্থাৎ ৮১ শতাংশই চীনের তৈরি এবং চীন তার সামরিক প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য দেশটিকে একটি পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর মতে, চীন ২০১৫ সাল থেকে পাকিস্তানের কাছে ৮.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করেছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে, চীন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে স্থান করে নেয়। এই রপ্তানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা ৬৩ শতাংশ পাকিস্তানে গেছে, যা ইসলামাবাদকে চীনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতায় পরিণত করেছে।
গত বছর ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে একটি জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এর জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে, যার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) অবস্থিত ন’টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা। ভারতের এই পদক্ষেপের ফলে জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তইবা এবং হিজবুল মুজাহিদিন-সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ১০০ জনেরও বেশি জঙ্গি নিহত হয়।















