আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনার পরিস্থিতি অব্যাহত। তার মধ্যেই ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে তেল বিপর্যয়ের ঘটনা। পারস্য উপসাগরের জলে তেলের এক বিশাল আস্তরণ ছড়িয়ে পড়েছে। এমনই দেখা গেছে মহাকাশ থেকে নেওয়া উপগ্রহ চিত্র থেকে। তেলের আস্তরণ ক্রমশ সৌদি আরবের জলসীমার দিকেও এগোচ্ছে। যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

সংবাদমাধ্যমের খবর, ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা 'কোপারনিকাস সেন্টিনেল'-এর উপগ্রহ চিত্রেই ধরা পড়েছে পারস্য উপসাগরে তেল বিপর্যয়ের ঘটনা। মনে করা হচ্ছে, ৬ থেকে ৮ মে-র মধ্যেই ঘটেছে এই ঘটনা। প্রাপ্ত ছবিগুলিতে দেখা গেছে, খার্গ দ্বীপের পশ্চিম উপকূলে সমুদ্রের জল ধূসর ও সাদা রঙের তেলের আস্তরণে ঢেকে গেছে। তেল পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'অরবিটাল ইওএস'-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে তেলের স্তর ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। তবে অন্যান্য সূত্রের খবর, এই পরিমাপ ৪৫ থেকে ৭১ বর্গ কিলোমিটারও হতে পারে। প্রাথমিক অনুমান, প্রায় ৩ হাজার ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে মিশে যেতে পারে। খার্গ দ্বীপ ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল এখান থেকেই বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। তাই এই বিপর্যয়ের ঘটনায় উদ্বেগের ছায়া আন্তর্জাতিক মহলে।

 

প্রাথমিক ভাবে তেল নিঃসরণের ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। ইরান সরকার এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মত, মার্কিন-ইজরায়েল এবং ইরান সংঘাতের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির সঙ্গে এই দুর্ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে। সম্ভাব্য কিছু কারণের মধ্যে খার্গ দ্বীপের সাথে আবুজার তেলক্ষেত্রের সংযোগস্থলের সমুদ্রতলে কোনও পুরনো এবং জীর্ণ পাইপলাইন ফেটে এই বিপর্যয় ঘটতে পারে। আবার, মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে ওই অঞ্চলে আটকে থাকা ইরান তেলবাহী জাহাজগুলির ট্যাঙ্ক পূর্ণ হয়ে উদ্বৃত্ত তেল সমুদ্রে মিশে গেছে বলেও আশঙ্কা অনেকের। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মাঝে নানা সময়ে সামরিক আঘাতের কারণে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা, সেই সম্ভাবনার কথাও জানাচ্ছেন অনেকে।

 

এই ঘটনায় পরিবেশবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তাঁরা সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই তেল পারস্য উপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র এবং উপকূলবর্তী দেশের জল পরিশোধন ব্যবস্থার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কিত পরিবেশবিদেরা।

 

উল্লেখ্য, সংঘর্ষবিরতির পরেও আমেরিকা-ইরানের মধ্যে চাপানউতোরে ছেদ পড়েনি। সম্প্রতি হরমুজের কাছে ফের গুলি চলার ঘটনা ঘটেছে। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে চলছে দোষারোপের পালা। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ তুলেছে।