আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বের বৃহত্তম কন্ডোম প্রস্তুতকারক সংস্থা 'কারেক্র' (Karex) থেকে আসা একটি ঘোষণা সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মালয়েশিয়া-ভিত্তিক এই সংস্থার প্রধান নির্বাহী গোহ মিয়াহ কিয়াত জানিয়েছেন, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধের জেরে কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কন্ডোমের দাম ৩০ শতাংশ বা তারও বেশি বাড়তে পারে। বছরে ৫০০ কোটির বেশি কন্ডোম উৎপাদনকারী এই সংস্থাটি বিশ্বের নামী ব্র্যান্ড যেমন 'ডিউরেক্স' (Durex) বা 'ট্রোজান' (Trojan)-এর পাশাপাশি ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার (NHS) মতো সরকারি দপ্তরেও পণ্য সরবরাহ করে থাকে। ফলে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে সারা বিশ্বে।

গোহ মিয়াহ কিয়াত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যুদ্ধের শুরু থেকেই উৎপাদন খরচ আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরান যখন থেকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বা হুমকির কথা জানিয়েছে, তখন থেকেই বিশ্বজুড়ে খনিজ তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট খনিজ তেল ও এলএনজি-র প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়েই যাতায়াত করে। কন্ডোম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাটেক্স সংরক্ষণে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়া এবং সিলিকন-ভিত্তিক লুব্রিকেন্ট—এই দুই প্রধান উপাদানই খনিজ তেল থেকে পাওয়া যায়। যুদ্ধের ফলে এই কাঁচামালগুলোর আকাল দেখা দেওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

মজার বিষয় হল, একদিকে যেমন জোগান কমছে, অন্যদিকে বাজারে কন্ডোমের চাহিদা এ বছর প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এর পেছনে এক গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ ব্যাখ্যা করেছেন গোহ। তিনি বলেন, "খারাপ সময়ে মানুষ যখন ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে চিন্তিত থাকে, যখন পরের বছর চাকরি থাকবে কি না তা নিয়ে ধন্দ থাকে, তখন কন্ডোমের ব্যবহার বেড়ে যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সন্তান জন্ম দেওয়া মানে আরও একটি নতুন মুখকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নেওয়া, যা এই মন্দার বাজারে অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।" অর্থাৎ, আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে মানুষ জন্মনিয়ন্ত্রণের দিকে বেশি ঝুঁকছে, অথচ ঠিক সেই সময়েই পণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তবে শুধু কন্ডোম নয়, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন ব্যবহারের আরও অনেক পণ্যের ওপর। নতুন গবেষণা বলছে, আকাশপথে যাতায়াতের খরচ বা বিমানের টিকিটের দাম গত বছরের তুলনায় গড়ে ২৪ শতাংশ বেড়ে গেছে। জাহাজে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ার কারণে সার, কম্পিউটারের চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত হিলিয়াম গ্যাস এবং এমনকি বোতলজাত পানীয় জলের দামও বাড়তে শুরু করেছে। জাতিসংঘ আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিল যে, পরিবহন খরচ বাড়লে চিনি, দুগ্ধজাত পণ্য এবং ফলের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়বে। বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কথা বললেও শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনো অস্পষ্ট, যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এক বড়সড় সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।