আজকাল ওয়েবডেস্ক: পল মার্শাল জুনিয়র যখন ২০২০ সালে লুইসিয়ানার হটন হাই স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন, তখন তাঁর মাথায় কেবল একজনের মুখই ভাসছিল—তাঁর মা লাটোনিয়া। ২০১০ সালে ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর লাটোনিয়া যখন মারা যান, পলের বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর। সম্প্রতি পলের একটি পুরনো ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে স্নাতক হওয়ার পর তিনি তাঁর মায়ের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সাফল্যের খবর দিচ্ছেন। এই দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না নেটিজেনরা।


ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, পল একগুচ্ছ ফুল হাতে নিয়ে তাঁর মায়ের কবরের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন। অত্যন্ত আবেগপ্রবণ গলায় তাঁকে বলতে শোনা যায়, "ও মা, আমার কিছু বলার আছে। আমি পেরেছি! আজ আমি গ্র্যাজুয়েট হয়েছি। আমি জানি তুমি আজ আমার জন্য খুব গর্বিত এবং খুশি। আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।" এরপর তিনি তাঁর মায়ের স্মৃতিফলকে ফুলগুলো রেখে নিজের হাতে চুমু খেয়ে কবরের ওপর হাত রাখেন।


পলের বাবা, পল মার্শাল সিনিয়র জানান, গ্র্যাজুয়েশনের এক সপ্তাহ আগেই পল বায়না ধরেছিলেন যে তিনি তাঁর মায়ের কবরের কাছে ফুল নিয়ে যেতে চান। লাটোনিয়ার শেষ ইচ্ছা ছিল তাঁর ছেলের গ্র্যাজুয়েশন দেখে যাওয়া। পলের বাবা বলেন, "লাটোনিয়া সবসময় পলের জন্য সেরাটা চাইত। ওঁর শেষ কথাগুলো ছিল—'আমি শুধু পল জুনিয়রকে গ্র্যাজুয়েট হতে দেখতে চাই'।"

পলের এই যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। তিনি একটি মাত্র কার্যকরী কিডনি এবং হৃদযন্ত্রের ত্রুটি নিয়ে জন্মেছিলেন। এমনকি গ্র্যাজুয়েশনের মাত্র এক বছর আগেও তাঁর হার্ট ভালভ প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল। তার কয়েক মাস পরেই প্রয়োজন হয় কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের। দাতা ছিলেন স্বয়ং তাঁর বাবা। টানা ৮ ঘণ্টার সেই যন্ত্রণাদায়ক অস্ত্রোপচার জয় করেই পল আজ এই জায়গায়।


পলের বাবা স্মৃতিচারণ করে বলেন, "পল ৫ দিন হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাটিয়ে ৬ দিনের মাথায় হাসিমুখে বেরিয়ে আসে। আপনার দিনটা যদি খারাপ যায়, তবে আপনি পলের সান্নিধ্য চাইবেন। ওর হাসিমুখ যে কাউকে শক্তি দেয়।" স্কুল ছাড়ার দুঃখে পল কিছুটা বিষণ্ণ হলেও তাঁর বিশ্বাস—স্বর্গে ঈশ্বর এবং তাঁর দিদিমা তাঁর মায়ের যত্ন নিচ্ছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও দেখে হাজার হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, "অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারানো কতটা কষ্টের তা লিখে বোঝানো সম্ভব নয়। ওর এই জয় আমাদের সবার জয়।" অন্য একজন লিখেছেন, "পল, আমরা সবাই তোমার জন্য গর্বিত, আর তোমার মা নিশ্চিতভাবেই ওপর থেকে হাসছেন।"

অদম্য জেদ আর মায়ের প্রতি এক সন্তানের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা প্রমাণ করে দিল যে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা ব্যক্তিগত শোক কোনোটিই সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না। পল আজ কেবল একজন গ্র্যাজুয়েট নন, তিনি হাজার হাজার মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম।