আজকাল ওয়েবডেস্ক: অ্যামাজন জঙ্গলের রহস্যময় জীববৈচিত্র্যের মধ্যে সবসময়ই সাপের উপস্থিতি এক বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। তেমনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে সবুজ আনাকোন্ডা প্রজাতির একটি ব্যতিক্রমী সদস্য—আনা জুলিয়া। বিজ্ঞানীরা তাকে আখ্যা দিয়েছেন সমসাময়িক সময়ের “ইভোলিউশনাল মার্ভেল” বা বিবর্তনের বিস্ময়। কারণ তার কিছু স্বভাব ও শারীরিক অভিযোজন দেখায় কিভাবে প্রাকৃতিক বিবর্তন এখনও চলছে এবং পরিবেশের সাথে প্রাণীজগৎ ক্রমাগত মানিয়ে নিচ্ছে।


সবুজ আনাকোন্ডা পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী সাপগুলোর একটি। সাধারণত জল ও কাদামাটি ভর্তি জলাশয়ে তারা বসবাস করে। কিন্তু আনা জুলিয়ার বিশেষত্ব হল তার ব্যতিক্রমী অভিযোজন ক্ষমতা। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, সে দীর্ঘ সময় জলের নিচে থাকতে পারে, যা সাধারণ আনাকোন্ডার তুলনায় আরও বেশি। আনাকোন্ডা স্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী ফুসফুস ও ধীর গতির কারণে ডুবসাঁতার দিতে পারে, কিন্তু আনা জুলিয়া প্রায় দেড় ঘন্টা জলের নিচে নিঃশ্বাস না নিয়ে থাকতে সক্ষম হয়েছে বলে রিপোর্ট আছে। এটি শুধু শিকার ধরার কৌশল নয়, বরং পরিবেশগত চাপের বিরুদ্ধে বিবর্তনের এক দৃষ্টান্ত।


এছাড়া তার রঙ ও ত্বকে কিছু ক্ষুদ্র জেনেটিক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণ সবুজের সাথে কিছু কালচে-বাদামি ছোপের অতিরিক্ত উপস্থিতি তাকে জলে বা ঘন ডালপালায় লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করে। ক্যামোফ্লাজ দক্ষতার এই উন্নতি শিকার ধরতে ও শিকারির চোখ এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জীববিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিকার কমে যাওয়া, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং মানুষের বিস্তার—সব মিলিয়ে এই ধরনের বিবর্তন চাপ সৃষ্টি করেছে।


অন্যদিকে আচরণগত দিকেও সে আগ্রহের বিষয়। আনাকোন্ডা সাধারণত একাকী প্রাণী হলেও আনা জুলিয়াকে মাঝে মাঝে ছোট দল বা শিকার শেয়ার করতে দেখা গেছে, যা সাপের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অস্বাভাবিক। যদিও এটি সম্পূর্ণভাবে বিবর্তনের লক্ষণ কিনা তা নিয়ে বিতর্ক আছে, কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন—বেঁচে থাকার কৌশল হিসেবে সহযোগিতা সময়ে সময়ে প্রাণীজগতে ফিরে আসতে পারে।

 

&t=1486s
আনা জুলিয়া আমাদের দেখায়, বিবর্তন শুধু অতীতের কোনও দূর স্মৃতি নয়; এটি এখনও বাস্তব, চলমান এবং আশ্চর্যজনক। প্রকৃতি কখনও থামে না—এবং একটি সাপও আমাদের সেই সত্য নতুন করে মনে করিয়ে দিতে পারে। তাই আনা জুলিয়াকে ঘিরে গবেষণা শুধু আনাকোন্ডার ভবিষ্যৎ নয়, পুরো প্রাণিজগতের অভিযোজনশীলতা বোঝার ক্ষেত্রে এক মূল্যবান দিক।