আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ছায়া বিশ্বব্যাপী। অর্থাৎ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল হাতে গোনা কয়েকটি দেশ, কিন্তু মাশুল গুনছে বহু দেশ। কারণ পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘর্ষের কারণে, মূলত চিন্তার কালো মেঘ জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে। যেসব দেশ আমদানি করা তেলের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তারা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় নিজেদের রক্ষা করার জন্য প্রায়শই জরুরি মজুদ বজায় রাখে। এই মজুদ সরকারগুলিকে বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি প্রবাহ ব্যাহত হলে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু কোন দেশে কতটা তেল মজুত, তা দিয়ে দেশের কতদিন চলবে? গত কয়েকদিনে জোর চর্চা তা নিয়ে।

এসবের মাঝেই বড় ঘোষণা ইন্টারন্যাশন্যাল এনার্জি এজেন্সির। এই সঙ্কটের পরিস্থিতিতে আইইএ একটি বিবৃতি জারি করেছে। তাতে জানানো হয়েছে, জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কার মাঝেই, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ৩২টি সদস্য দেশ বুধবার সর্বসম্মতিক্রমে তাদের জরুরি মজুদ থেকে বাজারে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। 
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে বাজারের পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং সরবরাহ বিপর্যয় মোকাবেলার বিকল্পগুলি বিবেচনা করার জন্য আইইএ-এর নির্বাহী পরিচালক মঙ্গলে সদস্য দেশগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসে। আইইএ-এর  নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল জানিয়েছেন, 'তেল বাজার বিশ্বব্যাপী, তাই বড় ধরনের বিপর্যয়ের প্রতিক্রিয়াও বিশ্বব্যাপী হওয়া উচিত। জ্বালানি নিরাপত্তা হল আইইএ-র মূল লক্ষ্য, এবং আমি আনন্দিত যে সমস্ত সদস্যরা একসঙ্গে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে দৃঢ় সংহতি প্রদর্শন করছে।' সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, প্রতিটি দেশ, জাতীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মজুদ বিচার করে, বাকি বাজারে ছাড়বে।

তথ্য, এই মুহূর্তে আইইএ-এর সদস্য দেশগুলির কাছে ১.২ বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি জরুরি মজুদ রয়েছে। যার মহদ্যে আবার বড় অংশ ওই সদস্য দেশগুলির মজুদ হিসেবে সরকারি নিয়মের আওতায় পড়ে। অর্থাৎ চাহিদানুসারে ওই দেশগুলি ওই নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি মজুদ রাখবে। 

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, এই সমন্বিত স্টক মুক্তির বিষয়টি আইইএ প্রথম করছে না। এর আগেও সদস্য দেশগুলি মিলিত হবে পাঁচবার পরিস্থিতি বিচারে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।.১৯৭৪ সালে তৈরি হওয়া আইইএ ১৯৯১, ২০০১, ২০০৫ এবং ২০২২ সালে দু'বার  এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। 

কেন তীব্র জ্বালানি সঙ্কট, এক নজরে-

ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে উত্তাল পশ্চিম এহসিয়া। সংঘাত, সংঘর্ষ, যুদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে বাধা গ্রস্ত হরমুজ প্রণালী। অপরিশোধিত এবং পরিশোধিত পণ্যের রপ্তানি ব্যাপক বাধা প্রাপ্ত হয়েছে। আগে যে পরিমাণ রপ্তানি হত, এখনের পরিমাণ, আগের পরিমাণের মাত্র ১০ শতাংশ। ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে ২০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং তেল পণ্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে, যা বিশ্বের সমুদ্রপথে তেল বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাঘাত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, IEA-এর নিয়ম অনুসারে, যেসব সদস্য দেশ রপ্তানির চেয়ে বেশি তেল আমদানি করে, তাদের কমপক্ষে ৯০ দিনের আমদানির সমান জরুরি মজুদ বজায় রাখতে হবে। এই মজুদ সাধারণত সরকারি সুবিধা, বাণিজ্যিক স্টোরেজ ট্যাঙ্ক এবং শিল্প মজুদে সংরক্ষণ করা হয়। আসুন দেখে নেওয়া যাক কোন দেশের কাছে কতটা তেল মজুদ রয়েছে।