আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে আক্রান্ত হল ভারতগামী জ্বালানি জাহাজ। বুধবার এই কৌশলগত উপসাগরীয় জাহাজ চলাচলের পথে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি থাই পণ্যবাহী জাহাজ আক্রান্ত হয়। এর ফলে জাহাজের একটি অংশ আগুনে পুড়ে যায়। জাহাজের ক্রুদের জন্য উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরান রেভলিউশেনারি গার্ডস। আক্রান্ত জাহাজটি ১৭৮ মিটার লম্বা এবং এর বহনক্ষমতা প্রায় ৩০,০০০ টন। এটি থাই পরিবহন সংস্থা প্রিশিয়াস শিপিংয়ের মালিকানাধীন।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বুধবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে গুজরাটের কান্দলা বন্দরে যাওয়ার পথে একটি থাই জাহাজে হামলা চালানো হয়। জাহাজটির নাম ‘ময়ূরী নারী ব্যাঙ্কক’। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের খলিফা বন্দর ছেড়ে সংকীর্ণ শিপিং করিডোর অতিক্রম করার হামলার মুখে পড়ে। হামলার পরপরই ওমানের নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সে দেশের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ২০ জন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে, এবং নিখোঁজ তিন জনের খোঁজ চলছে।
ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গার্ডের বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, “লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ইpরায়েলি মালিকানাধীন এক্সপ্রেস রোম জাহাজ এবং কন্টেইনার জাহাজ ময়ূরী নারী ইরানি মিসাইল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। জাহাজগুলি আইআরজিসি নৌবাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় সেগুলিকে থামানো হয়েছে।”
রয়্যাল থাই নেভির মতে, হামলার পর জাহাজের হাল এবং উপরিভাগ থেকে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা গিয়েছে। নৌবাহিনীর প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, জলে লাইফ র্যাফট মোতায়েন করা হয়েছে, জ্বলন্ত জাহাজটিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এদিনই ব্রিটেনের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমান থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে একটি পণ্যবাহী জাহাজে একটি অজানা মিসাইল আঘাত হানে, যার ফলে জাহাজে আগুন লেগে যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ় প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে দিয়েছে ইরান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে দিয়েছে হরমুজ দিয়ে আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইউরোপের কোন জাহাজ যেতে দেওয়া হবে না। হামলার আশঙ্কায় অনেক জাহাজ সার সার দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনেক ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজও। ভারতের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৪০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালী দিয়েই। ৮০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম গ্যাস আসে পশ্চিম এশিয়া থাকা। এই অস্থির পরিস্থিতির ফলে দেশে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
