আজকাল ওয়েবডেস্ক: থাইল্যান্ডের ফুকেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় সমস্যার মুখে পড়ল এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমান। বুধবার সকালে হায়দরাবাদ থেকে আসা একটি বিমান রানওয়েতে নামার সময় হঠাৎ জোর ধাক্কা খায়। এতে বিমানের নোজ ল্যান্ডিং গিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই ঘটনার পরে বিমানটি রানওয়ের উপরেই আটকে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরের রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ছ'ঘণ্টা বিমান ওঠানামা বন্ধ ছিল।
তথ্য, বিপদের মুখে পড়া ওই বিমানের নম্বর ছিল আইএক্সনাইনএইট। বিমানে মোট ১৩৩ জন যাত্রী ছিলেন। অবতরণের পরে সকল যাত্রীকে নিরাপদভাবে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। কোনও যাত্রী বা ক্রু সদস্য আহত হননি। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির পরে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রানওয়ে পরীক্ষা এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অবতরণের সময় বিমানের সামনের চাকা বা নোজ হুইলে সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে বিমানটি রানওয়েতে নামার সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ধাক্কা খায়। সেই ধাক্কায় নোজ ল্যান্ডিং গিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধার এবং পরিদর্শনের কাজ শুরু করে। বিশেষজ্ঞ-এর দল, রানওয়ে পরীক্ষা করে দেখে যাতে অন্য কোনও ক্ষতি না থাকে।
এই ঘটনার পরে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সংস্থার তরফে জানানো হয়, হায়দরাবাদ থেকে ফুকেটগামী ফ্লাইটে নোজ হুইল সংক্রান্ত একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়েছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিমানের ক্রু সদস্যরা সমস্ত নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করেছেন। সেই কারণেই যাত্রীদের নিরাপদভাবে নামানো সম্ভব হয়েছে। যাত্রীদের সহযোগিতার জন্য এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস সংস্থা ধন্যবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ফুকেট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
ফুকেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুপুর প্রায় দেড়টা নাগাদ ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটিকে রানওয়ে থেকে সরানোর কাজ শুরু হয়। এরপর রানওয়ে পরিষ্কার করা হয় এবং নিরাপত্তাবিষয়ক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় সময় সন্ধে ছ'টার পরে রানওয়ে আবার চালু হওয়ার কথা জানানো হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সতর্ক থাকতে বলেছে। যাদের ওই সময়ের মধ্যে ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল, তাদের নিজেদের বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা জেনে নিতে বলা হয়েছে। রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কারণে যাত্রীদের যে অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে। এই ঘটনার পরে বিমান নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
