আজকাল ওয়েবডেস্ক: পেটে অসহ্য যন্ত্রণা, পেট খারাপ। সাতদিন পরেই ভয়ঙ্কর পরিণতি হল এক কিশোরীর। পেটের অসুখের জেরে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ল সে। অটোপসি রিপোর্টে ফাঁস হল কিশোরীর মৃত্যুর আসল কারণ। যা জেনেই চমকে উঠেছেন চিকিৎসক।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ১৭ বছরের কিশোরীর নাম, লুইস ফ্র্যান্সিস। ঘটনাটি ঘটেছে ইংল্যান্ডে। পরিবার জানিয়েছে, পেটে অসহ্য যন্ত্রণা, ডায়রিয়া, পেট খারাপের মতো উপসর্গ ছিল তার। সকলের ধারণা ছিল, কোনও সংক্রমণ বা খাবারে বিষক্রিয়ার জেরে পেটের অসুখে ভুগছে সে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতেই হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছিল।
এমনকী শুরুতে খাবারে বিষক্রিয়া ভেবেই লুইসের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন চিকিৎসকরা। সাতদিনের মধ্যেই লুইসের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে। অটোপসি রিপোর্টে ফাঁস হয় মৃত্যুর আসল কারণ।
লুইসের মৃত্যুর কারণ কী শুধুই পেটের অসুখ? অটোপসিতে জানা যায়, অন্য কারণ। যা দেখেই চমকে ওঠেন সকলে। জানা গেছে, তার পেটে অতি বিরল পরজীবীর উপস্থিতি ছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই সংক্রমণ অতি বিরল ঘটনা। যা এক লক্ষ মানুষের মধ্যে দু'জনের হতে পারে।
লুইসের মা জানিয়েছেন, কিশোরী অত্যন্ত প্রাণবন্ত, ছটফটে, হাসিখুশি থাকত সারাদিন। গোটা বাড়ি সেই মাতিয়ে রাখত। ডায়রিয়া এবং পেটের যন্ত্রণার উপসর্গকে প্রথমে কেউই বিশেষ গুরুত্ব দেননি। এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালের শয্যায় মর্মান্তিক পরিণতি হল তার।
হাসপাতালে ভর্তির দু'দিন পর পরীক্ষানিরীক্ষা করে জানা গিয়েছিল, লুইসের পেটে ই.কোলাই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। উচ্চমানের চিকিৎসার আওতায় থাকলেও, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। ক্রমেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরেও শেষরক্ষা হয়নি।
চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়ামের মতো পরজীবী বিষাক্ত জল ও খাবার থেকে শরীরে প্রবেশ করে। বিশেষত যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই পরজীবী গুরুতর প্রভাব ফেলে। গত কয়েক বছরেই গোটা ব্রিটেনে ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়ামের বাড়বাড়ন্ত লক্ষ করা যাচ্ছে।
