আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির বিবেক বিহারের চারতলা একটি আবাসিক ভবনে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ন’জন মানুষ এই দুর্ঘটনায় নিহত হন। নিহতের মধ্যে একজন শিশুও ছিল। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এসি বিস্ফোরণের জন্য অথবা শর্ট সার্কিট হওয়ার জন্য এই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবনের নিরাপত্তার জন্য লোহার গ্রিল তৈরি করা হয়েছিল। পাশাপাশি বন্ধ করা ছিল ছাদের দরজাও। ফলে আহতরা পালাতে পারেননি। তাঁদের মৃত্যুর জন্য দায়ি করা হচ্ছে এই অপরিকল্পিত নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং বন্ধ থাকা ছাদের দরজাকেই। 

শুধু এই একটি ঘটনা এমন তা নয়। ভারতে প্রায় প্রতিদিন তিন থেকে চারটি বাড়িতে আগুন লাগে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৩১৮টি অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে অগ্নিকান্ডগুলির খবর প্রকাশ্যে এসেছে সেগুলো সবকটিই প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল। 

কীভাবে সেই প্রতিরোধ সম্ভব? জেনে নেওয়া যাক সেগুলিরই কয়েকটা উপায়-

প্রথমত, বাড়িতে যতগুলো বিদ্যুৎ-এর জিনিস আছে, সেগুলোকে যত্নে রাখা দরকার। পুরাতন হলে যা যা কিছু খারাপ তা সারিয়ে নেওয়া জরুরি। যেমন, এসি বা কুলার কিম্বা ফ্রিজের মতো যন্ত্রপাতিগুলোকে সাবধানে রাখতে হবে। ছয়-সাত বছর বাদে বাদে একবার করে পরীক্ষা করতে হবে সমস্ত যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কিনা। এমসিভি বাড়িতে ব্যবহার করলে বেশি বিদ্যুৎ-এর চাপ পড়লে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে কোনও রকমের অগ্নি সংযোগের মতো ঘটনা এক্ষেত্রে ঘটবে না। পাশাপাশি একই সঙ্গে অনেকগুলো জিনিস চার্জে দেওয়া থাকলেও অগ্নি সংযোগের সম্ভাবনা থাকতে পারে। 

দ্বিতীয়ত, এলপিজি সিলিন্ডার সাবধানে রাখতে হবে। সবসময় এলপিজি সোজা করে রাখতে হবে। এমন জায়গায় রাখতে হবে যে জায়গাটা ঠান্ডা এবং খোলামেলা। গ্যাস লিক আছে কিনা সাবান জল দিয়ে পরীক্ষা করা যায়। সেটা মাঝে মাঝে পরীক্ষা করতে হবে। গ্যাসের গন্ধ পেলে কোনও মতেই আগুন জ্বালানো যাবে না। 

তৃতীয়ত, সমস্ত বাড়িতে একটা নির্দিষ্ট ‘এমার্জেন্সি এক্সিট’ থাকা ভীষণ দরকার। বাড়িতে অন্তত দুটি বাইরে বেরোনোর রাস্তা থাকতে হবে। একটা সাধারণ দিনে ব্যবহারের জন্য, অন্যটি আপতকালীন সময়ের জন্য। ছাদের দরজা বা সিঁড়ির মুখের সামনের দরজার কখনও বন্ধ রাখলে চলবে না। যখন আগুন লাগে তখন চারিদিক ধোঁয়ায় ভরে ওঠে। ফলে ঘরের জানলাগুলোকে একটু বড় করে তৈরি করার পরামর্শ দেন অগ্নি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। সিঁড়িতে ওঠা-নামার জন্য সিঁড়ি ফাঁকা রাখতে হবে আপতকালীন সময়ে মানুষ দ্রুত পালাতে চায়। তখন সিঁড়ির মুখে খবরের কাগজ কিম্বা পুরাতন আসবাব থাকলে সমস্যা তৈরি হয়। 

চতুর্থত, স্মোক ডিটেক্টর ও ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখা জরুরি। স্মোক অ্যালার্ম অনেক জীবন বাঁচাতে পারে। পাশাপাশি, সকলের ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার শেখা উচিৎ। 

এগুলোর পাশাপাশি অবশ্যই আরও অনেকগুলো ছোট ছোট বিষয় রোজ-নামচার অভ্যাসে রাকা জরুরি। যেমন, প্রয়োজন না থাকলে এসি, হিটার জাতীয় যন্ত্রগুলো বন্ধ রাখতে হবে, বাড়ির ভিতরে ধূমপান করা যাবে না, পর্দা এবং কাগজ জাতীয় জিনিস গ্যাস স্টোভের থেকে অন্তত তিন ফুট দূরে রাখতে হবে। রোজ রান্নাঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। আর কোনওভাবে এমার্জেন্সি এক্সিটের সামনে কিছু রাখলে চলবে না। যখন তখন প্রয়োজন পড়বে, ফলে এক্সিটের মুখ উন্মুক্ত রাখতে হবে।