বেদ-উপনিষদ থেকে ভগবদ্গীতা— সর্বত্রই দান করাকে অত্যন্ত পুণ্যকর্ম বলে বিবেচনা করা হয়েছে৷ শাস্ত্র মতে, প্রতিদানের আশা না রেখে দান করলেই পুণ্য সঞ্চিত হয়, কর্মফল শুদ্ধ হয় এবং আত্মা মোক্ষের পথে এগিয়ে যায়।
2
12
হিন্দুধর্মে অসংখ্য দানের উল্লেখ রয়েছে। তাঁর মধ্যে পাঁচটি দানকে শেষ্ঠ বলে মনে করা হয়৷ এই পাঁচ দানের বিষয় জেনে নেওয়া যাক৷
3
12
১. “অন্নদানং মহাদানম্', ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া সমস্ত দানের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। মনু স্মৃতি বলে, অন্নদান একাই সমস্ত দানের অর্ধেক পুণ্য বহন করে। মন্দিরে অন্নদান, লঙ্গর, প্রসাদ বিতরণ— সবই এই ঐতিহ্যের অংশ। বাঙালিদের পুজোয় ভোগ বিতরণ এই দানেরই রূপ।
4
12
২.
“সর্বেষামেব দানানাং ব্রহ্মদানং বিশিষ্যতে”। অন্ন ক্ষুধা মেটায় একদিন, কিন্তু জ্ঞান মানুষকে আজীবন স্বনির্ভর করে তোলে। বঞ্চিত শিশুকে পড়ানো, বিনামূল্যে দক্ষতা শেখানো, বই দান, বৃত্তি প্রদান— সবই বিদ্যাদানের আধুনিক রূপ। ডিজিটাল যুগে অনলাইনে মেন্টরশিপ বা ফ্রি কোর্স তৈরি করাও সমান পুণ্যের কাজ। শাস্ত্র অনুযায়ী, বিদ্যাদান ব্রহ্মলোক প্রাপ্তির সহায়ক।
5
12
৩. বৈদিক যুগ থেকেই গোদান শ্রেষ্ঠ পুণ্যকর্ম মনে করা হয়৷ শাস্ত্র অনুযায়ী, গোদান সূর্যলোক প্রাপ্তির পথ খুলে দেয় এবং পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তি আনে। আধুনিক শহুরে জীবনে সরাসরি গোদান কঠিন হলেও, গোশালায় অর্থদান, গবাদি পশু দত্তক নেওয়া কিংবা পশুকল্যাণ সংস্থাকে সাহায্য কর এই দানের সমতুল্য হতে পারে৷
6
12
৪. শীতের রাতে ফুটপাতে ঠান্ডায় কাঁপতে থাকা মানুষটির গায়ে একটি কম্বল— এর চেয়ে বড় দান কী হতে পারে? বস্ত্রদান শাস্ত্রমতে চন্দ্রলোক প্রাপ্তির পথ। দুর্গাপুজো, দীপাবলি, শীতের সময় বস্ত্রদান এই ঐতিহ্যেরই অংশ।
7
12
৫. বিপদে পড়া কাউকে আশ্রয় দেওয়া, অন্যায়ের শিকার ব্যক্তির সাহায্য করা, অসহায়কে সুরক্ষা দেওয়া— এই সবই অভয়দান। শাস্ত্র অনুযায়ী, অভয়দান রাজ্যপ্রাপ্তি ও সৌভাগ্যের পথ। আধুনিক সমাজে বহু নারী গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হন৷ বহু শিশুকে নির্যাতন করা হয়৷ এদের সুরক্ষা দেওয়া অভয়দানের সমতুল্য৷
8
12
শাস্ত্রমতে, দান করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি৷ প্রথমত, দান করতে হবে শ্রদ্ধার সঙ্গে, প্রসন্ন মনে।
9
12
দ্বিতীয়ত, আপনার দানের কারণে যিনি দান গ্রহণ করছেন, তিনি যেন বিব্রত না হন৷ সম্মানের সঙ্গে দিতে হবে।
10
12
তৃতীয়ত, দানের পর প্রশংসা বা পরিচিতির আশা করা যাবে না।
11
12
চতুর্থত, ঋণ করে দান নয়, নিজের সাধ্যের মধ্যে যেটুকু সম্ভব, সেটুকুই দিতে হবে।
12
12
দানের প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল পুণ্য অর্জন নয়, অহংকার ক্ষয়, করুণার বিকাশ। দান যখন স্বার্থহীন হয়, তখন তা শুধু কর্ম শুদ্ধ করে না— দাতার আত্মাকেও শুদ্ধ করে।