আজকাল ওয়েবডেস্ক: নতুন বছরের শুরুতেই সুপারমুনের সাক্ষী থাকতে চলেছে ভারতবাসী। জানা গিয়েছে, শনিবার বছরের প্রথম সুপারমুন দেখা যাবে রাতের আকাশে।
পরিষ্কার রাতের আকাশে নজর কাড়বে উজ্জ্বল ‘উলফ সুপারমুন’। সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় এই চাঁদ সামান্য বড় ও অনেক বেশি উজ্জ্বল দেখাবে। জানা গিয়েছে, সূর্যের বিপরীত দিকে মিথুন নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থান করার কারণে চাঁদের এই দৃশ্য আরও আকর্ষণীয় হবে।
জানা গিয়েছে, শনিবারই ২০২৬ সালের প্রথম পূর্ণিমা। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, চলতি বছরে তিনটি সুপারমুনের দেখা মিলবে। তার প্রথমটি দেখা যাবে আজ শনিবার।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায়, যখন পূর্ণিমার চাঁদ পৃথিবীর কক্ষপথের সবচেয়ে কাছের বিন্দু পেরিজির আশেপাশে অবস্থান করে, তখন তাকে সুপারমুন বলা হয়।
চাঁদের কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হওয়ায় পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব প্রায় ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার কিলোমিটার থেকে ৪ লক্ষ ৬ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে ওঠানামা করে। এই কারণেই চাঁদের আকার ও উজ্জ্বলতায় পার্থক্য দেখা যায়।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শনিবার চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৩ লক্ষ ৬২ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকবে। ফলে অন্যদিনের সাধারণ আকারের তুলনায় প্রায় ৬–১৪ শতাংশ বড় এবং ১৩–৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল দেখাতে পারে।
চলতি বছরের প্রথম সুপারমুনের এমন একটা সময় দেখা মিলেছে যখন পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে রয়েছে। ফলে, চাঁদের উপর বেশি করে সূর্যের আলো পড়ায় পৃথিবী থেকে চাঁদকে আরও উজ্জ্বল দেখায়।
বিজ্ঞানীর জানাচ্ছেন, শনিবারে পূর্ণিমার চাঁদ এক ধরনের ‘ট্রিপল বুস্ট’ পাচ্ছে। এই বিশেষ সংমিশ্রণের ফলে শনিবারের উলফ সুপারমুন চলতি বছরের অন্যতম উজ্জ্বল পূর্ণিমা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে খালি চোখে আকারের পার্থক্য খুব সূক্ষ্মভাবে বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। জানুয়ারি মাসের পূর্ণিমাকে ঐতিহ্যগতভাবে ‘উলফ মুন’ বলা হয়।
উত্তর গোলার্ধের লোককথা অনুযায়ী, শীতের গভীর রাতে নেকড়ের ডাকের সঙ্গে এই পূর্ণিমার নামকরণ জড়িত। বর্তমানে এটি মূলত একটি সাংস্কৃতিক নাম হলেও, প্রতিটি মাসের পূর্ণিমাকে আলাদা করে চিহ্নিত করতে এই নাম বহুল ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী, চাঁদটি শনিবার বিকেল ৩.৩২ মিনিট থেকে ৩.৩৪ মিনিটের মধ্যে পূর্ণিমার অবস্থায় পৌঁছবে। তবে এর আগে ও পরে কয়েক রাত ধরে চাঁদটিকে পূর্ণিমার মতোই গোলাকার আকারে দেখা যাবে।
তবে সবচেয়ে ভাল ভাবে সুপারমুনের দেখা মিলবে ২ ও ৩ জানুয়ারির সন্ধ্যায় চাঁদ ওঠার সময়। পূর্বের আকাশে নিচু অবস্থানে থাকার কারণে চাঁদটি হলুদ বা কমলা আভা ধারণ করতে পারে।
এই সময় চাঁদের কাছেই উজ্জ্বল বৃহস্পতি গ্রহ দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।জানা গিয়েছে, সূর্যাস্তের পর প্রায় সন্ধ্যা ৫.৪৫ মিনিট থেকে ৬টার মধ্যে চাঁদটি দেখা যাবে এবং সারা রাত আকাশে থেকে ভোরে পশ্চিম আকাশে অস্ত যাবে।
২০২৬ সালের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দৃশ্য এই উলফ সুপারমুন। এটি খালি চোখেই উপভোগ করা গেলেও ক্যামেরা বা টেলিস্কোপ থাকলে অভিজ্ঞতা হবে আরও স্মরণীয়। তবে এর পিছনে রয়েছে অন্য এক কারণও।
কথিত রয়েছে এই সময় অনেকের জীবনে বিপর্যয় বয়ে নিয়ে আসবে। এই সময় শয়তানের শক্তি বেশি থাকবে। তাই তারা অনেককেই নিজের কাছে টানতে চাইবে।
এই সময় জঙ্গলের নেকড়েরা অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে যায়। তারা এই শয়তানের আগমন অতি দ্রুত টের পায়। যারা তান্ত্রিক শক্তির সাধনা করে থাকেন তাদের কাছে এই দিনটি অতি গুরুত্বের।
