আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরলেন প্রয়াত রেলমন্ত্রী গণিখান চৌধুরীর ভাগ্নি ও রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। শনিবার দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করলেন তিনি। যোগদানের এই অনুষ্ঠানে ছিলেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ, রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত গুলাম আহমেদ মীর, পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং মালদার কংগ্রেস সাংসদ ও মৌসমের দাদা ঈশা খান চৌধুরী।
যোগদানের পর মৌসম বলেন, "আমাদের পরিবার কংগ্রেসের পরিবার। জাতীয় কংগ্রেসকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি সম্মানিত। ইতিমধ্যেই আমি দলের চেয়ারপার্সন মমতা ব্যানার্জির কাছে চিঠি লিখে তৃণমূল ছাড়ার কথা জানিয়েছি। সোমবার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেব।" কংগ্রেসে যোগদানের প্রসঙ্গে এদিন মৌসম জানিয়েছে, কয়েকমাস ধরেই তাঁদের পরিবারের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল। তাঁর কথায়, "বরকত সাহেবের পরম্পরা কংগ্রেসের পরম্পরা। কংগ্রেসের হয়ে প্রচার শুরু করব। বাংলায় পরিবর্তন আনা জরুরি।" কোনও শর্তসাপেক্ষে তিনি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন কিনা সে প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, "আমি কোনও শর্ত দিয়ে কংগ্রেসে আসিনি। দল আমাকে যেই দায়িত্ব দেবে আমি সেটাই করব। কংগ্রেসকে মজবুত করার চেষ্টা করব।" বাংলায় পরিবর্তন আনা জরুরি বলেও এদিন তিনি জানান, "কংগ্রেসের প্রধান বিরোধী বিজেপি।"
রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, "এটা শুধু ট্রেইলার। আগামীদিনে আরও জিনিস অপেক্ষা করছে।" মৌসমের যোগদানের পর এদিন জয়রাম রমেশ বলেন, "গণিখান চৌধুরী ছিলেন কংগ্রেসের একটি স্তম্ভ। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ চাইছেন কংগ্রেস আরও মজবুত হোক। সেজন্যই মৌসম যোগদান করেছেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, 'মৌসম বদলতে হ্যায়'।"

রাজ্য কংগ্রেসের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য রণজিৎ মুখার্জি বলেন, "অত্যন্ত আনন্দের খবর। কংগ্রেস পরিবারের একজন সদস্য আবার ফিরে এসেছেন। এর ফলে ওঁদের পরিবারে যে রাজনৈতিক ফাটল তৈরি হয়েছিল সেই ফাটলটা এবার জোড়া লাগল। এটার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হল রাজ্যে যে হয় তৃণমূল, নয় বিজেপি মার্কা একটা কথা ছড়িয়ে দেওয়া আছে সেই কথাটাও ভুল বলে প্রমাণ হল। আরও যে বা যারা কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছেন তাঁরাও কিন্তু ভবিষ্যতে এভাবেই ফিরে আসবেন।"
&t=1479s
প্রসঙ্গত, কংগ্রেস সংসদ ছাড়াও মৌসম ছিলেন রাজ্য যুব কংগ্রেসের সভাপতি। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে মালদার চারটি বিধানসভার কোঅর্ডিনেটর করা হয়েছিল।
